খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ

চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশি অভিযানে ১০টিরও বেশি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার লাভ লেন এলাকায় একটি বাসায় চালানো হয় এই অভিযান।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বড় ধরনের একটি চক্রের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা করেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেন এলাকায় একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ১০টিরও বেশি মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় সম্প্রতি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানা এলাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর, পুলিশ লাভ লেন এলাকার একটি বাসা ঘেরাও করে সেখানে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের সময় ওই বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যা ১০টিরও বেশি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাইকারী চক্র নয়, বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চোর ও ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। উদ্ধার করা এসব ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সাথে এগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, জব্দ করা মোবাইল ফোনের তালিকায় দামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনও রয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলো থেকে কৌশলে হাতানো হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, পলাতক থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। নগরীতে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার রেশ ধরে নগরীর অন্যান্য সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মামলার আলামত হিসেবে থানায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগর পুলিশ নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করেছে। ছিনতাই প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলছে, সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হস্তান্তরের মাধ্যমে তদন্তের নতুন মোড় ঘুরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ট্রাকের ধাক্কায় আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
ট্রাকের ধাক্কায় আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে গুরুতর অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে এবং তার পরিবারে।

সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকে চেসি ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য। তবে গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাত ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে শেষ রক্ষা আর হয়নি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, চেসি ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছিলেন এবং তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর পরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার তীব্রতা এবং আঘাতের ভয়াবহতা বিবেচনায় তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল।

তার এই মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপদ সড়কের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান বা কাছের স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম শোকাচ্ছন্ন। তার এই মর্মান্তিক পরিণতি ক্যাম্পাসে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে নিয়মিত আন্দোলন হওয়া সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু কেবল একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অসম সমাপ্তি। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং দীর্ঘ সময় অজ্ঞান থাকার ফলে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

চেসি ত্রিপুরার অকাল প্রয়াণ উচ্চশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে চলে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে এখন শুধু চেসি ত্রিপুরার স্মৃতির শোকলিপি। তার সহপাঠীরা তাকে স্মরণ করবে একজন হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত বন্ধু হিসেবে। এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই

মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বলি হলেন মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মহাসড়কে আবারও বেপরোয়া গতির বলি হতে হলো সাধারণ মানুষকে। অত্যন্ত মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা শঙ্কিত বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের পাশ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার একপাশে ছিটকে পড়ে। এর ফলে আরোহীদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতাবস্থায় অন্য দুইজনকে উদ্ধার করেন এবং জরুরি সেবা নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য চান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক যানবাহনটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত তা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য কোনো যানবাহনের ত্রুটি ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

সড়ক ও মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চালকদের অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে জীবন দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মহাসড়কগুলো ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হেলমেট পরিধান বা গতিসীমা মেনে চলার মতো সাধারণ নিয়মগুলো না মানার ফলে অনেক সময় ছোটখাটো ভুলও বড় ধরণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা এবং গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ পলাতক চালককে শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ চালকদের উদ্দেশ্যে বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বেপরোয়া মনোভাবের পরিবর্তন না হওয়ায় এমন অকাল মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কার্যকরী পদক্ষেপই কেবল এমন ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক

রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল উপ-শহরের ৩০০ ফিট সড়কটি আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই বন্ধু, যাদের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবার ও পরিচিত মহলে। দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এই তিন বন্ধু ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। দুর্ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনো এক পর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহীরা ছিটকে পড়েন রাস্তায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে ঘিরে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৩০০ ফিট সড়কের প্রশস্ততা বাড়লেও সেখানে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতা কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত কয়েক বছরে এই রুটে এমন অনেক মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকাবাসীকে সবসময় আতঙ্কিত রাখে।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং চালক পালিয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী থাকায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনার পর সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, যদি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না হয় এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই ধরনের শোকাবহ ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

আহত অপর আরোহীর বেঁচে থাকার লড়াই চলছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে আঘাতের ধরন গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তই তার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূর্বাচলের মতো দ্রুত বর্ধনশীল এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ
ট্রাকের ধাক্কায় আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫ শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার
Advertisement