মহাসড়কে আবারও বেপরোয়া গতির বলি হতে হলো সাধারণ মানুষকে। অত্যন্ত মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা শঙ্কিত বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের পাশ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার একপাশে ছিটকে পড়ে। এর ফলে আরোহীদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতাবস্থায় অন্য দুইজনকে উদ্ধার করেন এবং জরুরি সেবা নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য চান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক যানবাহনটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত তা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য কোনো যানবাহনের ত্রুটি ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
সড়ক ও মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চালকদের অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে জীবন দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মহাসড়কগুলো ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হেলমেট পরিধান বা গতিসীমা মেনে চলার মতো সাধারণ নিয়মগুলো না মানার ফলে অনেক সময় ছোটখাটো ভুলও বড় ধরণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা এবং গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ পলাতক চালককে শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ চালকদের উদ্দেশ্যে বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বেপরোয়া মনোভাবের পরিবর্তন না হওয়ায় এমন অকাল মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কার্যকরী পদক্ষেপই কেবল এমন ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ অপরাহ্ণ