ট্রাকের ধাক্কায় আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে গুরুতর অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে এবং তার পরিবারে।
সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর থেকে চেসি ত্রিপুরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য। তবে গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাত ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে শেষ রক্ষা আর হয়নি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, চেসি ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছিলেন এবং তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর পরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার তীব্রতা এবং আঘাতের ভয়াবহতা বিবেচনায় তাকে ঢাকায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল।
তার এই মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপদ সড়কের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান বা কাছের স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম শোকাচ্ছন্ন। তার এই মর্মান্তিক পরিণতি ক্যাম্পাসে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে নিয়মিত আন্দোলন হওয়া সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু কেবল একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অসম সমাপ্তি। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং দীর্ঘ সময় অজ্ঞান থাকার ফলে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
চেসি ত্রিপুরার অকাল প্রয়াণ উচ্চশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে চলে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে এখন শুধু চেসি ত্রিপুরার স্মৃতির শোকলিপি। তার সহপাঠীরা তাকে স্মরণ করবে একজন হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত বন্ধু হিসেবে। এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে গেল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]