খুঁজুন
, ,

মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ত্রাসের রাজত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম হোতা ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর মূল নিয়ন্ত্রক মেহেদী হাসান জয় ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ অভিযানে তাদের আটকের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ দখল, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও পৃষ্ঠপোষকতার মতো গুরুতর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান হলেন মেহেদী হাসান ওরফে জয়, যার বয়স ৩৯ বছর। তার অন্য দুই ভাই হলেন সানজিম হাসান এবং অমিত হাসান। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, গত কয়েক বছর ধরে এই তিন ভাই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। তাদের অপরাধের পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। নির্মাণাধীন ভবন বা প্লট থেকে চাঁদা আদায়, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ঝুট ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী তাদের চাহিদামতো অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন বা এলাকাছাড়া করার হুমকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জবরদস্তি অর্থ আদায় করে আসছিল। এমনকি জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার নামেও তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস স্থানীয়দের ছিল না, কারণ তাদের রয়েছে এক বিশাল বাহিনী বা কিশোর অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক। এই গ্রুপের মাধ্যমে তারা মূলত এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এই তিন ভাইকে আটকের পর এখন তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিরপুর এলাকায় চলমান অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং তাদের সাথে জড়িত আরও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। স্থানীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ মামলা আকারে নথিভুক্ত রয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর অপরাধ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই তিন ভাইয়ের গ্রেফতারের মাধ্যমে মিরপুর এলাকায় অপরাধের যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল তা ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয়রা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু গ্রেফতারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং তারা যেন কোনোভাবেই জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ মূলত ছোটখাটো অপরাধ থেকে শুরু করে বড় ধরনের জমি দখল এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের মতো কাজগুলো করত। তারা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরির জন্য কিশোরদের ভুল পথে চালিত করত এবং গ্যাং কালচারের মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিত। এখন তাদের গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কারা কারা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ইন্ধন দিচ্ছে বা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন।

জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব

দেশের মাটি থেকে হাজার মাইল দূরে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে উঠলেন প্রবাসী বাঙালিরা। ঢাকের আওয়াজ আর উৎসবের আমেজে পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে শামিল হন প্রায় এক হাজার মানুষ।

দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও শেকড়ের টান এড়ানো অসম্ভব। সেই টানেই জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে আয়োজিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রবাসী বাঙালিদের এই মিলনমেলায় গত ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মুখর ছিল উৎসবের আঙিনা। সুদূর ইউরোপের মাটিতে বাঙালির এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে দেখা দিয়েছে এক অন্যরকম আবহ, যা যেন দেশের দুর্গাপূজার স্মৃতিকেই ফিরিয়ে এনেছে বিদেশের মাটিতে।

উৎসবের দিনগুলোতে ডুসেলডর্ফ শহরের পরিবেশ ছিল আনন্দমুখর। ঢাক-ঢোল আর বাদ্য-বাজনার তালে পুরো এলাকাটি যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে চলা এই পূজার আয়োজনে কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই পালন করা হয়নি, বরং একে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এই উৎসবে প্রায় এক হাজার প্রবাসী বাঙালি অংশ নিয়েছেন। সব বয়সী মানুষ উৎসবে শামিল হওয়ায় ডুসেলডর্ফের এই আয়োজন পেয়েছে এক পূর্ণতা।

পূজা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল নানা বৈচিত্র্য। একদিকে যেমন মন্দিরের আঙিনায় চলেছিল ধুনুচি নাচ, অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ, অন্যদিকে তেমনি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। দেশের বিখ্যাত সব দুর্গোৎসবের আমেজ যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল ডুসেলডর্ফের এই আয়োজনে। প্রবাসীরা তাদের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই কয়টি দিন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যারা বাইরে বড় হচ্ছে, তারাও এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

উপস্থিত অনেক প্রবাসীই জানান, প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে নিজের দেশের উৎসবগুলো পালন করা কেবল আনন্দের নয়, বরং এটি তাদের মানসিকভাবে প্রশান্তি দেয়। একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া, কুশল বিনিময় এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডায় কেটেছে উৎসবের দিনগুলো। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মতো একটি বড় উৎসবে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাওয়াটা তাদের জন্য ছিল একটি বড় আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। দূরদেশে বসে দেশের মাটির টান অনুভব করার জন্য এই ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে বিজয়া দশমীর আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সিঁদুর খেলা আর একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর মাধ্যমে সবাই যেন আরেক বছরের অপেক্ষায় বিদায় জানিয়েছেন মা দুর্গাকে। ডুসেলডর্ফের এই দুর্গোৎসব কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে এবারের উৎসবটি সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন ডুসেলডর্ফে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা।

চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ

চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশি অভিযানে ১০টিরও বেশি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার লাভ লেন এলাকায় একটি বাসায় চালানো হয় এই অভিযান।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বড় ধরনের একটি চক্রের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা করেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর কোতোয়ালি থানার লাভ লেন এলাকায় একটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ১০টিরও বেশি মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় সম্প্রতি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানা এলাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর, পুলিশ লাভ লেন এলাকার একটি বাসা ঘেরাও করে সেখানে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের সময় ওই বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যা ১০টিরও বেশি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো সাধারণ ছিনতাইকারী চক্র নয়, বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চোর ও ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। উদ্ধার করা এসব ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সাথে এগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, জব্দ করা মোবাইল ফোনের তালিকায় দামি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনও রয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে নগরীর ব্যস্ততম এলাকাগুলো থেকে কৌশলে হাতানো হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, পলাতক থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। নগরীতে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার রেশ ধরে নগরীর অন্যান্য সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতেও তল্লাশি চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মামলার আলামত হিসেবে থানায় রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগর পুলিশ নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করেছে। ছিনতাই প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ বলছে, সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হস্তান্তরের মাধ্যমে তদন্তের নতুন মোড় ঘুরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মারসা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় চালকসহ মোট পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ উভয় যান জব্দ করেছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার। চন্দনাইশ এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষের ঘটনায় চালকসহ মোট পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল মারসা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি প্রাইভেটকার। মহাসড়কের চন্দনাইশ এলাকায় পৌঁছানোর পর কোনো একটি যানবাহন ওভারটেক করার সময় দুই গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। সংঘর্ষের ফলে প্রাইভেটকারের সামনের অংশটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বাসটির সামনের দিকের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চন্দনাইশ থানা থেকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও, তাদের মধ্যে প্রাইভেটকার চালকসহ বাসের যাত্রী বা কারে থাকা অন্য যাত্রীরাও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শেষ করার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও প্রাইভেটকারটি পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের ওই এলাকায় দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওভারটেক করার সময় অতিরিক্ত গতির কারণে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে ঘটনার সঠিক কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনার পর মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। আহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মহাসড়কে এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সর্বশেষ
জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫ শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার উন্নত চিকিৎসাও ব্যর্থ, না ফেরার দেশে রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা মোংলা সফরের বিরল মুহূর্ত: বাদাম বিক্রেতার সঙ্গে করমর্দনে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Advertisement