মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর মিরপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ত্রাসের রাজত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম হোতা ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর মূল নিয়ন্ত্রক মেহেদী হাসান জয় ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ অভিযানে তাদের আটকের মধ্য দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ দখল, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও পৃষ্ঠপোষকতার মতো গুরুতর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রধান হলেন মেহেদী হাসান ওরফে জয়, যার বয়স ৩৯ বছর। তার অন্য দুই ভাই হলেন সানজিম হাসান এবং অমিত হাসান। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, গত কয়েক বছর ধরে এই তিন ভাই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। তাদের অপরাধের পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। নির্মাণাধীন ভবন বা প্লট থেকে চাঁদা আদায়, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ঝুট ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী তাদের চাহিদামতো অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন বা এলাকাছাড়া করার হুমকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জবরদস্তি অর্থ আদায় করে আসছিল। এমনকি জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার নামেও তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস স্থানীয়দের ছিল না, কারণ তাদের রয়েছে এক বিশাল বাহিনী বা কিশোর অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক। এই গ্রুপের মাধ্যমে তারা মূলত এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এই তিন ভাইকে আটকের পর এখন তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিরপুর এলাকায় চলমান অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং তাদের সাথে জড়িত আরও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। স্থানীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ মামলা আকারে নথিভুক্ত রয়েছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর অপরাধ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই তিন ভাইয়ের গ্রেফতারের মাধ্যমে মিরপুর এলাকায় অপরাধের যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল তা ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয়রা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু গ্রেফতারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় এবং তারা যেন কোনোভাবেই জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ মূলত ছোটখাটো অপরাধ থেকে শুরু করে বড় ধরনের জমি দখল এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের মতো কাজগুলো করত। তারা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরির জন্য কিশোরদের ভুল পথে চালিত করত এবং গ্যাং কালচারের মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিত। এখন তাদের গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কারা কারা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ইন্ধন দিচ্ছে বা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন