ফেসবুক পেজ খুলে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
জাতিসংঘ শিশু তহবিল—ইউনিসেফের একটি প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোজাম্মেল হক, বয়স ২৯ বছর, এবং মো. আল আমিন সরদার, বয়স ২৫ বছর। তাঁদের মধ্যে একজনকে চক্রটির মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগ গ্রেফতারের তথ্য জানায়। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুকে চাকরিসংক্রান্ত একটি পেজ তাদের নজরে আসে। ওই পেজ ব্যবহার করে ইউনিসেফের প্রকল্পে চাকরির সুযোগের কথা বলে আগ্রহীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের আড়ালে প্রতারণার এই কার্যক্রম চালাত একটি চক্র।
ঘটনাটির বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ফেসবুক পেজটি ছিল প্রতারণার সঙ্গে যোগাযোগ ও চাকরির প্রলোভন প্রচারের মাধ্যম। তবে পেজটির সম্পূর্ণ নাম, কত দিন ধরে সেটি চালু ছিল, কতজন সেখানে যোগাযোগ করেছিলেন কিংবা কতজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ, ভুক্তভোগীদের পরিচয় এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দিষ্ট পদ্ধতিও প্রাথমিক তথ্যে স্পষ্ট নয়।
চাকরির সুযোগের কথা শুনে কেউ অর্থ দিয়েছেন কি না, দিলে কীভাবে লেনদেন হয়েছে—এ ধরনের বিবরণও এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের ব্যাপ্তি বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। গ্রেফতার হওয়া দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া। গ্রেফতার মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ে পেজটি শনাক্ত হওয়ার পর কী ধরনের অনুসন্ধান চালানো হয়েছে, কোন এলাকায় অভিযান হয়েছে এবং গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান কী—এসব তথ্যও প্রকাশিত বিবরণে নেই। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনো ডিভাইস, নথি বা অর্থ উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। তাই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বাড়তি তথ্য না আসা পর্যন্ত এসব বিষয়ে অনুমান করা ঠিক হবে না।
ইউনিসেফের মতো পরিচিত সংস্থার নাম ব্যবহার করে চাকরির প্রলোভন দেখানোর অভিযোগটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সতর্কতার বিষয়। তবে এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী বা প্রতিনিধি জড়িত—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। কোনো ফেসবুক পেজে নাম বা লোগো ব্যবহার করা হলেই সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও আবেদনপ্রক্রিয়া যাচাই করা এবং নিয়োগের নামে অর্থ চাওয়া হলে সতর্ক থাকা জরুরি।
চাকরিপ্রার্থীদের উচিত বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানা ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ও যাচাইকৃত মাধ্যমের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। সন্দেহজনক কোনো পেজ বা বার্তায় ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র, ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা অর্থ দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের সতর্কতা প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে পারে; তবে কোনো ব্যক্তি এই ঘটনায় প্রতারিত হয়েছেন কি না, তা তদন্তের তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
গ্রেফতার দুইজনের ভূমিকা, তাঁদের মধ্যে কে মূলহোতা এবং চক্রে আরও কেউ যুক্ত কি না—তদন্তে এসব বিষয় যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে পেজটির মাধ্যমে কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী তথ্য রয়েছে, তা অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে তদন্তের এই ধাপগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা বিষয় হলো, ইউনিসেফের প্রকল্পে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ডিবি দুইজনকে গ্রেফতার করেছে এবং সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক পেজটির সন্ধান পায়। তদন্তের ফল, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত না আসা পর্যন্ত মামলার পরিধি নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]