খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশের আলো’র ১৮ বছর পদার্পণে চাঁদপুরে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী, চাঁদপুর
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আলো’র ১৮ বছর পদার্পণে চাঁদপুরে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার ১৮ বছর পদার্পণে চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি সাইদ হোসেন অপু চৌধুরীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায়
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম এন জামিউল হিকমা

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আলো পত্রিকা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পাঠক মহলে সারা জাগিয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পত্রিকাটি জনগণের আস্থা অর্জনে সর্বদা কাজ করবে বলে বিশ্বাস করি। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দৈনিক বাংলাদেশের আলো আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও জাতি গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন দেশ ও জনগণের উন্নয়নে সাংবাদিকরা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে থাকে।এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের ভেতরে আমাদের সংস্কৃতির চেতনা জাগাতে হবে। তাদের চোখে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বুকে নিয়ে ক্ষুদে চিত্রশিল্পীরা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক
আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন হাওলাদার।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জিং সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশের আলো। আমরা সবসময় সাংবাদিকদের পাশে আছি। বাংলাদেশের আলো সত্য প্রকাশে নির্ভিক। নানা চাপ উপেক্ষা করে পত্রিকাটি সত্য প্রকাশ করে। নিপীড়িত মানুষের দুর্দশার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই পত্রিকাটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে। পত্রিকাটি শতবছর ছাড়িয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা করছি।

চিত্র প্রশিক্ষক ও দৈনিক আদিবাংলা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক অভিজিত রায়ের সভাপতিত্বে সাংবাদিক এবং নাট্যকর্মী আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী ও সাংবাদিক সবুজ গাজীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সল,চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. গাজী মোঃ জসিম উদ্দিন মেহেদী হাসান, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি আল আমিন ভূঁইয়া, চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমীর মহা পরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রনি।

বিকাল ৩ টায় একেই স্থানে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

তিনি বলেন, রচনা প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তা ও ভাবনা প্রকাশের একটি চমৎকার মাধ্যম। এটি তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। আজকের দিনের জ্ঞানই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে। জেতার জন্য নয়, বরং অংশগ্রহণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা উচিত। কারণ, প্রতিটি অংশগ্রহণই নতুন কিছু শেখার সুযোগ এনে দেয়।
তিনি আরও বলেন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো’ বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমটি উন্নয়ন সাংবাদিকতায় অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে বলেও আমার বিশ্বাস। পত্রিকাটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংগৃহীত সংবাদের মাধ্যমে প্রকাশিত গণমানুষের মুখপাত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। সারাদেশের প্রতিনিধিগণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বস্ত্রনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করে গনমানুষের মন জয় করেছেন,বহুল আলোচিত পত্রিকা বাংলাদেশের আলো,সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপোষহীন ও বদ্ধপরিকর।

রচনা প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ও ড্যাব চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খেলাধূলা, সঙ্গীত চর্চা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা- লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রচনা, হস্তলেখা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের সুযোগ হয়।’শুধু লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত না রাখার জন্য শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা শিক্ষক তাদেরকে আমি বলব, তারা এদিকে আরো মনযোগী হবেন। শুধু সারাদিন যদি ঐ-‘পড়’, ‘পড়’, ‘পড়’- বলতে থাকেন তাহলে এটা কারোই ভাল লাগে না।’

তিনি বলেন, আমি সত্যই অনেক আনন্দিত কারণ এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অনেক মেধাবীরা উঠে আসবে। যাঁরা পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পর্যায়ক্রমে তাঁদের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারবে। যারা পুরষ্কার পাবে অবশ্যই যোগ্যতার নিরিক্ষেই পাবে। আমি তাদের উন্নতি কামনা করছি। যারা পুরস্কার পায়নি, ভবিষ্যতে তাদেরও সাধনার বলে প্রতিযোগিতার অংশ নেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি। কেননা জীবন একটি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। যেখানে নিজেকে তৈরি করতে হয় আগামী প্রতিযোগিতার জন্যে।

প্রতিযোগিতা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক
সাংবাদিক ও নাট্যকর্মী আলমগীর হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাংবাদিক সবুজ গাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর ৩ সদর আসনের এমপি প্রার্থী শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল গাজী বাহার, চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, চাঁদপুর জজ কোর্টের ভিপি জিপি, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আলম খান মঞ্জু, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেন চোকদার, সিসিডিএ’র চাঁদপুর সদর উপজেলা সমন্বয়কারী নার্গিস আক্তার, এন টিভি চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্য এ এইচ এম নিজাম উদ্দিন।

চিত্রাঙ্কন ও রচনার প্রতিটি বিষয়ে তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় স্কুলে অধ্যায়নরত প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত দুই শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সাদা কাগজের ক্যানভাস, রঙ-পেন্সিলের আঁকিবুকিতে মুখরিত হয় চাঁদপুর প্রেসক্লাব। এসব ক্ষুদে চিত্রশিল্পীরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তারা যথাক্রমে জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা, প্রাকৃতিক দৃশ্য এই কয়টি বিষয়ে উপর ছবি আঁকে।

এছাড়াও রচনায় শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত তিনটি গ্রুপে যথাক্রমে বিজ্ঞান ও বর্তমান বিশ্ব, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সচেতনতা, নতুন বাংলাদেশ এই বিষয়বস্তুর উপর প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ৩২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় প্রত্যেকটি গ্রুপ থেকে ১০ জন করে বিজয়ীদের দেয়া হবে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট।

পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার

ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জীবনে মাঠের সাফল্য, উইকেট শিকার কিংবা জয়ের আনন্দই প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকে। কিন্তু ব্লেয়ার টিকনারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিউজিল্যান্ডের এই জাতীয় দলের পেসারের কাছে এখন ক্রিকেট মাঠের চেয়েও পরিবারের সুস্থতা ও সাহচর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। স্ত্রীর ক্যানসার জয়ের লড়াই তাকে শিখিয়েছে মাঠের ক্রিকেট কখনোই জীবনের পরম সত্যের চেয়ে বড় নয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। সেই সময় ব্লেয়ার টিকনারের স্ত্রী সারার শরীরে বাসা বাঁধে মরণব্যাধি লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার। প্রিয়তমা স্ত্রীর এমন অসুস্থতায় পুরো পরিবারে নেমে আসে কালো ছায়া। একজন অ্যাথলেট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা এবং পরিবারের সংকটের মাঝখানে পড়ে যাওয়া টিকনারের জন্য ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। টানা আট মাস ধরে চলে চিকিৎসার দীর্ঘ ও দুর্বিষহ অধ্যায়। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা, যেখানে ক্রিকেট মাঠে বল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেয়েও অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়েছে হাসপাতালের করিডোরে।

সেই কঠিন সময়ে টিকনার ক্রিকেটের প্রতি তার চিরাচরিত আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে বিশ্লেষণ করেছেন। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার সুবাদে তিনি সবসময়ই জয়ের নেশায় মত্ত থাকতেন। কিন্তু সারার অসুস্থতা তাকে বুঝিয়েছে, জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের জীবন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা স্ত্রীর জন্য লড়াই করা এবং তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া ছিল যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচে জয়ের চেয়েও মহৎ। অবশেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে তাদের পরিবারে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত সেই সুখবর। দীর্ঘ লড়াই শেষে সারা ক্যানসার জয় করেন। সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি টিকনারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে টিকনার স্বীকার করেন যে, এই ঘটনা তার ভেতরে এক গভীর উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে। তিনি এখন প্রতিটি মুহূর্তকে নতুন করে উপভোগ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কাটানো সময়কে সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেন। মাঠের সাফল্য অবশ্যই তাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু এখন আর কোনো কিছুই তাকে পরিবারের অখন্ডতা ও ভালোবাসার চেয়ে বেশি তাড়িত করে না। তার এই ব্যক্তিগত লড়াই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং অনেক ক্রীড়াবিদের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ যে, খেলার বাইরেও জীবনের বড় এক জগত আছে, যার যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রীর সুস্থতাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করেন এবং নতুন উদ্যমে মাঠের ক্রিকেটেও মনোনিবেশ করছেন, তবে তার চিন্তা ও চেতনায় এখন পরিবারই অগ্রাধিকার পায়।

নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাদক কেনার টাকা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের বাবাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওই তরুণ। নিহত ব্যক্তির নাম আফসার শেখ, যার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তিনি উপজেলার বয়রা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে খায়রুল শেখ পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা একটার দিকে বাড়িতে ডাব কাটার কথা বলে রান্নাঘর থেকে বঁটি সংগ্রহ করে খায়রুল। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই মাদক কেনার টাকার জন্য বাবার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল খায়রুল। ঘটনার দিনও টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা না দেওয়ার আক্রোশ থেকেই সে বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, আফসার শেখ একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন, অথচ এমন নির্মম পরিণতি তাকে মেনে নিতে হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক ছেলে খায়রুল শেখ এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে খুঁজে বের করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আফসার শেখের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং ছেলের স্ত্রী জুঁই খানমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের স্বার্থে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল যে একটি পরিবারের সুখশান্তি ও জীবন কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তার একটি করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত খায়রুলকে দ্রুত গ্রেফতারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বয়রা গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মা এমন পরিণতি ভোগ না করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য গোপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত অপরাধী কোনোভাবেই পার না পায়।

সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী

সাইবার জগতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘনের ঘটনা বর্তমান সময়ে একটি বড় বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেভাবে বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব তথা কিম জং উনের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে ওঠা এক বিশেষ হ্যাকার বাহিনী এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত। বাইন্যান্সের মতো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে ৬৩০ কোটি ডলারের যে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে এই উত্তর কোরীয় সাইবার যোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত অভিযানের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

বিশ্লেষক এবং দেশত্যাগী বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সুসংগঠিত সাইবার কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দক্ষ সাইবার যোদ্ধা তৈরি করা, যারা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বা অর্থাগমের প্রয়োজনে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং পরিচালনা করবে। এই হ্যাকারদের উৎসাহিত করার জন্য পিয়ংইয়ং সরকার নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে। জানা গেছে, সফল অভিযান শেষে ফিরে আসা হ্যাকারদের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের অভিজাত এলাকায় প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্ট প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, যা উত্তর কোরিয়ার মতো একটি কঠোর নিয়ন্ত্রিত দেশে একজন নাগরিকের জন্য বড় ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই হ্যাকার বাহিনী গড়ে তোলার পদ্ধতিটিও বেশ অভিনব এবং কঠোর। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করাই এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অন্তত ২০০ জন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়, যাদের শৈশব থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয়। গণিত, কোডিং এবং সাইবার নিরাপত্তার জটিল বিষয়গুলোতে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তারা হয়ে ওঠে উত্তর কোরিয়ার সাইবার যুদ্ধের এক একটি গোপন অস্ত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম জং উনের শাসনামলে এই হ্যাকারদের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়া যখন অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ে, তখন এই ডিজিটাল চুরির মাধ্যমেই দেশটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে যে ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তারা একের পর এক বড় ধরনের সাইবার হামলা পরিচালনা করছে। বাইন্যান্সের মতো প্লাটফর্মে ৬৩০ কোটি ডলারের ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বিশাল কর্মকাণ্ডের অংশ মাত্র।

উত্তর কোরিয়ার এই কৌশলগত সাইবার অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে এই হ্যাকারদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত জটিল এবং গোপনীয়তার আবরণে ঢাকা থাকায় তাদের শনাক্ত করা বা দমানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সাইবার হামলা মোকাবিলায় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এই হ্যাকিং কার্যক্রম বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ
পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা পোশাক শিল্পের অস্থিরতা ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব অভিনয়ে ২৮ বছর: নতুন পথে ‘জাতীয় ফুপু’ দীপা খন্দকার পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনে যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন চীনা বিজ্ঞানীদের