ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের হিসাবেও দরকার ছিল অনুকূল ফল। কিন্তু আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলাও সম্ভব হয়নি। আফগানিস্তান ৭ উইকেটে জিতে ফাইনালের জায়গা নিশ্চিত করেছে, আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল এমন একটি পুঁজি দাঁড় করানো, যা দিয়ে আফগানিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়। কিন্তু ইনিংসজুড়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়নি। বাংলাদেশের ব্যাটিং ১৬০ রানেই থেমে যায়। ফলে বোলারদের হাতে রক্ষার মতো বড় সংগ্রহ ছিল না; শুরু থেকেই আফগানদের সামনে লক্ষ্যটি ছিল নাগালের মধ্যে।
বাংলাদেশের হয়ে কোনো ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোর বা জুটি ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি—দলীয় সংগ্রহই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। সীমিত রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় রান তোলার পথে এগিয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা তিনটি উইকেট নিতে পারলেও প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়ার মতো চাপ তৈরি করতে পারেননি। ১৬১ রানের লক্ষ্য ৮৭ বল হাতে রেখেই পার করে আফগানিস্তান।
সাত উইকেটের এই জয় শুধু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ করে দিয়েছে। সিরিজে এর আগে খেলা ম্যাচগুলোতেও জয় না পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল আরও বেশি। কিন্তু প্রথম ইনিংসে পর্যাপ্ত রান না আসায় জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তিই তৈরি হয়নি। এরপর আফগানিস্তানের অনায়াস রান তাড়া বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ মেলানোর আর কোনো সুযোগ রাখেনি।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল জিতে টুর্নামেন্টের হিসাব নিজেদের পক্ষে নেওয়া। তবে ঠিক কত রানের ব্যবধানে জিতলে বা অন্য কোন নির্দিষ্ট ফল হলে ফাইনালে ওঠা সম্ভব হতো, সে বিষয়ে পাওয়া তথ্য স্পষ্ট নয়। নিশ্চিত বিষয় হলো, বাংলাদেশকে জিততেই হতো এবং শেষ পর্যন্ত সেই জয় আসেনি। বরং কম রানের ইনিংসের পর আফগানিস্তানের বড় ব্যবধানে জয়ে দলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে।
আফগানিস্তানের জন্য এই ফল ফাইনালে ওঠার পথ পরিষ্কার করেছে। সিরিজের শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে জিম্বাবুয়ে। ফলে আবু ধাবির ম্যাচটি আফগানদের কাছে শুধু আরেকটি জয় নয়; এটি ছিল ফাইনালে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬১ রানের লক্ষ্য দ্রুত পেরিয়ে তারা সেই কাজটি করেছে।
বাংলাদেশের জন্য হতাশার জায়গা ছিল ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা এবং সেই ব্যর্থতার পর ম্যাচে ফিরে আসতে না পারা। ১৬০ রানে ইনিংস শেষ হওয়ায় বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ পড়ে। আফগান ব্যাটাররা তিন উইকেট হারালেও রান তোলার গতি ধরে রাখে এবং লক্ষ্য পূরণে বেশি সময় নেয়নি। দলীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ তৈরি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যবধানও বড় হয়েছে।
এই বিদায়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হলো। ফাইনালে জায়গা করে নিতে না পারার পেছনে শেষ ম্যাচের হার যেমন সরাসরি ভূমিকা রেখেছে, তেমনি ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় সংগ্রহ গড়তে না পারাও বড় কারণ। একদিকে জয় ও হিসাবের সমীকরণ, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার চ্যালেঞ্জ—দুই পরীক্ষার কোনোটিতেই বাংলাদেশ সফল হয়নি। আফগানিস্তান জিতে এগিয়ে গেছে শিরোপার লড়াইয়ে, আর বাংলাদেশকে ফিরতে হয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ