খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস। পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র বলছে, অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রেশ ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বেরিয়ে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন রাতে ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা সক্রিয় ছিল এবং ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয়েছিল, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মীদের নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচার চেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার না পেয়ে যায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন থমথমে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিচার দাবিতে সরব রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই স্পর্শকাতর ঘটনায় কতটা দ্রুততার সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়।

বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
   
বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া

টেলিভিশনের পর্দা পেরিয়ে এবার রুপালি পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ছোটপর্দার পরিচিত মুখ ইশা মালভিয়ার। রোমান্টিক ঘরানার সিনেমা ‘তুম মেরে হো’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের নতুন যাত্রা শুরু করছেন তিনি। এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা গুরমিত চৌধুরীকে। সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন ইশা, যেখানে উঠে এসেছে শুটিংয়ের নানা অভিজ্ঞতা এবং পর্দার রসায়নের কথা।

সিনেমার গল্পে প্রেম, আবেগ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের চিত্র ফুটে উঠেছে। টিজার প্রকাশের পর থেকেই ইশা ও গুরমিতের জুটিকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিনেমার কাহিনী ও নির্মাণের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার বিষয়টি নিয়েও চর্চা চলছে। ইশা মালভিয়া এই প্রসঙ্গে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ বা চুমুর দৃশ্যে অভিনয় করতে তাঁর কোনো অস্বস্তি বা অসুবিধা হয়নি। বরং পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে ইশা বলেন, গুরমিতের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করার সময় তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। এর পেছনে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সহশিল্পীর সহযোগিতামূলক আচরণকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইশার মতে, গুরমিত চৌধুরী একজন অত্যন্ত চমৎকার অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবেও তিনি দারুণ, যা একজন সহশিল্পী হিসেবে কাজকে অনেক সহজ করে দেয়। পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে যেকোনো পরিস্থিতি সামলানোর মতো আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইশার পাশাপাশি এই সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা গুরমিত চৌধুরীও শুটিং সেটে পেশাদারিত্বের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। রোমান্টিক সিনেমার খাতিরে পর্দার রসায়ন ফুটিয়ে তোলাটা জরুরি, আর সেই রসায়ন বজায় রেখেই তারা দৃশ্যগুলো ধারণ করেছেন। দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নিরঞ্জন আইয়েঙ্গার এবং পূর্বা নরেশ। সিনেমার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আশিস পান্ডা।

‘তুম মেরে হো’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আরতি এস এবং দেবিনা ব্যানার্জি। মজার বিষয় হলো, প্রযোজক হিসেবে এটি গুরমিত চৌধুরীর প্রথম কাজ। রেভা ক্রিয়েটিভ হাউস ও দেবগুরু ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী কলাকুশলীরা। টেলিভিশন তারকা হিসেবে ইশার পরিচিতি থাকলেও বড় পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করার এটি তাঁর প্রথম সুযোগ। অন্যদিকে গুরমিত চৌধুরী টেলিভিশন ও সিনেমা উভয় মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করছেন।

আসন্ন ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। মুক্তির আগেই ইশা ও গুরমিতের রসায়ন এবং ইশার সাহসিকতা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বড় পর্দায় এই নতুন জুটির রসায়ন দর্শক কতটা গ্রহণ করেন এবং সিনেমাটি বক্স অফিসে কেমন সাফল্য পায়। সব মিলিয়ে বলিউডে ইশা মালভিয়ার যাত্রাটি বেশ ঘটনাবহুল হয়ে উঠছে।

সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিন মাসের আগেই স্থগিত ছাত্রশক্তির চবি কমিটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
   
সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিন মাসের আগেই স্থগিত ছাত্রশক্তির চবি কমিটি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশক্তির কমিটি গঠনের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই স্থগিত করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং শাখাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না—এমন কারণ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে।

কমিটি স্থগিতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখাটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ, বর্তমান কাঠামোকে প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়নি। তবে কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট তারিখ, স্থগিতের আনুষ্ঠানিক তারিখ কিংবা সিদ্ধান্তটি কে ঘোষণা করেছেন—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সময়সীমা ও সিদ্ধান্তের কারণের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বিবরণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো সভাপতির নিষ্ক্রিয়তা। পাশাপাশি পুরো কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল একজন পদধারীর ভূমিকা নিয়ে নয়; শাখা কমিটির সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়েও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে বোঝা যায়। তবে কোন কাজ বা দায়িত্ব পালনে ঘাটতি ছিল, কিংবা কমিটির অন্য সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।

ছাত্রসংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি সাধারণত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখার কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের কমিটি প্রত্যাশিতভাবে সক্রিয় না থাকলে সংগঠনের স্থানীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ কমিটি স্থগিতের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রকাশিত তথ্যে ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু শাখাটির নির্দিষ্ট কর্মসূচি, সদস্যসংখ্যা বা কার্যক্রমের ফলাফল সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারিত হতে পারে। তবে কাউন্সিল কবে হবে, নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাব্য সময় কখন, কিংবা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কমিটি কবে দায়িত্ব নেবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বর্তমান কমিটি স্থগিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাজ কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। স্থগিতের সময় কোনো অন্তর্বর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—তা স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাংগঠনিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকবে, সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কমিটি স্থগিত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া সংগঠনটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী কমিটি গঠনের উদ্যোগ চলছে—এটিই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত অগ্রগতি। নতুন কমিটিতে কারা থাকবেন, নেতৃত্ব কীভাবে ঠিক হবে এবং আগের কমিটির স্থগিতের কারণগুলো কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশক্তি কমিটি স্থগিত হয়েছে; কমিটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি এবং সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। নতুন কাঠামো ঘোষণা হলে শাখাটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের পরবর্তী দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।

চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
   
চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা

ভালো চাকরির আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ প্রতারণার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। কাজের কথা বলে তাঁদের বিদেশে নেওয়ার পর দালালের খপ্পরে পড়ে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। যুদ্ধে কেউ মারা গেলে তাঁর মরদেহও দেশে ফিরছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কতজন বাংলাদেশি জড়িয়েছেন, তাঁদের পরিচয় কী, কিংবা ঠিক কোন পথে তাঁদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিদেশে কাজের প্রত্যাশা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে যাওয়ার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তরুণেরা চাকরি পাবেন—এমন আশায় দেশ ছাড়ছেন; কিন্তু তাঁদের গন্তব্য বা কাজের প্রকৃতি সম্পর্কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্য কি না, তা যাচাই করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে অভিযোগ। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর কীভাবে তাঁদের ওপর যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার চাপ তৈরি হয়, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

দালালের ভূমিকার কথা এই ঘটনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তবে ওই ব্যক্তিরা কীভাবে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁদের কাছে কী ধরনের চাকরির প্রস্তাব দেন, যাত্রার খরচ বা কাগজপত্রের ব্যবস্থা কে করে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা যায়নি। কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হয়েছে কি না, কিংবা প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা আগে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট নিয়োগপদ্ধতি বা সংগঠিত কোনো নেটওয়ার্কের কথা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে না ফেরার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে কতজন মারা গেছেন, তাঁদের মৃত্যুর খবর পরিবার কীভাবে পেয়েছে, কিংবা মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে প্রত্যেক ঘটনার অবস্থা এক রকম বলে ধরে নেওয়া যাবে না। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহের অবস্থান নিশ্চিত করার মতো তথ্য ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্রও স্পষ্ট নয়।

বিদেশে চাকরি নিতে আগ্রহীদের জন্য এই ঘটনা নিয়োগের শর্ত ও কাজের ধরন যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে। চাকরির প্রতিশ্রুতি, নিয়োগদাতার পরিচয়, চুক্তির ভাষা, ভিসার ধরন এবং যাত্রার নথি—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি। শুধু মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে বিদেশযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলে পরে কাজের প্রকৃতি বা অবস্থান সম্পর্কে আপত্তি জানানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তরুণেরা কোন নথিতে সম্মতি দিয়েছেন, সে তথ্য জানা যায়নি।

এ ধরনের অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাইয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের বক্তব্য, নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, যাত্রাসংক্রান্ত নথি এবং রাশিয়ায় তাঁদের বর্তমান অবস্থার তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে কারও মৃত্যু হয়ে থাকলে পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর দেয় না; তাই ঘটনার পরিসর বা দায়ীদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো ভিত্তি নেই। তবে ভালো চাকরির আশায় যাওয়া তরুণদের প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ এবং নিহতদের মরদেহ দেশে না ফেরার বিষয়—দুটিই দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাশিয়ায় কাজের প্রত্যাশায় যাওয়া বাংলাদেশি তরুণদের একটি অংশ প্রতারণা ও দালালের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের নিরাপত্তা, পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে যাচাইকৃত তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন। একইভাবে দেশে থাকা পরিবারগুলো যেন স্বজনের খবর পেতে পারে এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে মরদেহ ফেরানোর পথ সম্পর্কে জানতে পারে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা দরকার। নির্দিষ্ট সংখ্যা, নাম বা ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি না করে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই সবচেয়ে জরুরি।

সর্বশেষ
বলিউডে অভিষেকের আগেই আলোচনায় ইশা মালভিয়া সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিন মাসের আগেই স্থগিত ছাত্রশক্তির চবি কমিটি চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা গত চ্যাম্পিয়নস লিগে বর্ষসেরা, এবার তৃতীয় ম্যাচেই চোটে ছিটকে কাভারাস্কেইয়া নিহত যুবদল নেতার মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়া গেছে: পুলিশ ফাইনালে যাওয়ার কঠিন সমীকরণ: আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা চবিতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দুজনকে শনাক্তের দাবি
Advertisement