খুঁজুন
, ,

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা টিআইবির

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা টিআইবির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা দোষীদের শাস্তির দাবি করেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই দিনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় মামলা করা হয়।

এদিকে টিআইবি এক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

টিআইবি আরও জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে জনগণের তথ্য জানার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তথ্যসূত্র:
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), এনটিভি অনলাইন ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ঘটে যাওয়া দুটি ভিন্ন ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাসী এক দম্পতিকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা সেখানে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে ভুক্তভোগী দম্পতির ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। তারা ভুক্তভোগীদের নানা রকম অপবাদ দিয়ে জিম্মি করে মারধর করেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রায়পুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি পদের একজন প্রার্থী। এছাড়া তিনি অতীতে রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ রাবার জব্দ করেছে পুলিশ। নিয়মিত টহল ও নজরদারির অংশ হিসেবে পুলিশ একটি কাভার্ডভ্যানকে চ্যালেঞ্জ করে থামায়। এরপর ভ্যানটি তল্লাশি করে প্রায় ছয় থেকে সাত টন রাবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই রাবারের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ রাবার পাচারের সময় তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জব্দ করা রাবারগুলো এবং আটককৃত ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ উপায়ে রাবার পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের চোরাচালান ও সহিংসতার ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়, সেজন্য কঠোর নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটি যেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়, সেখানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঘটনাটি সংগঠিত অপরাধের একটি চিত্র তুলে ধরে। উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় টহল জোরদার এবং অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার

অশিক্ষিত হওয়ার কারণে প্রায়ই শুনতে হতো কটু কথা। এক ব্যক্তির করা অপমানজনক মন্তব্য যেন হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল রাজুর। তখন থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার জেদ চেপে বসে তার মাথায়। পেশায় নাপিত হলেও জ্ঞানের পিপাসাকে তিনি দমন করতে পারেননি। অপমানের জ্বালায় ভেঙে না পড়ে সেই গঞ্জনার জবাব দিতে তিনি বেছে নিয়েছেন বইয়ের জগতকে। এখন রাজুর সেলুনে গেলেই দেখা মেলে সারি সারি বইয়ের তাক, যা আজ একটি লাইব্রেরিতে রূপ নিয়েছে। এলাকার মানুষের কাছে রাজুর এই উদ্যোগ এখন দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত অনেকদিন আগে। সেলুনে কাজ করার সময় এক খদ্দের তাকে বলেছিলেন, তুমি নাপিত, তুমি অশিক্ষিত, তুমি আমার সাথে কী কথা বলবে। এই বাক্যটি রাজুর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। কিন্তু তিনি সেই ক্ষোভকে প্রতিশোধে রূপ না দিয়ে সৃজনশীল কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভেবেছিলেন, শিক্ষার অভাবে মানুষ যদি তাকে নিচু চোখে দেখে, তবে তিনি নিজেই নিজের পড়াশোনার ব্যবস্থা করবেন এবং অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দেবেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নিজের উপার্জিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে বই কেনা শুরু করেন।

বর্তমানে রাজুর সেলুনে প্রবেশের পর অন্য আট-দশটি চুল কাটার দোকানের মতো শুধু কাঁচি আর চিরুনির আওয়াজই পাওয়া যায় না। এখন সেখানে ঢুকলে বইয়ের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। দোকানের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা কাঠের তাকে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের বই। এখানে ছোট গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে জীবনমুখী ও সাধারণ জ্ঞানের বইয়ের সমাহার রয়েছে। চুল কাটার অপেক্ষায় থাকা খদ্দেররা এখন আর অহেতুক বসে থাকেন না। কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে নিচ্ছেন পছন্দের বইটি, আবার কেউ সময় কাটচ্ছেন পত্রিকা পড়ে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আগে সেলুনে গেলে মানুষ নানা ধরনের আড্ডায় সময় কাটাত, যার বেশিরভাগই ছিল অর্থহীন। কিন্তু রাজুর এই উদ্যোগে এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এবং বয়স্ক পাঠকরাও এখন এখানে এসে বই পড়ছেন। কেউ চাইলে এখান থেকে বই বাসায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন। রাজু নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন থাকলেও বইয়ের প্রতি তার এই গভীর টান এবং অন্যদের বইমুখী করার প্রচেষ্টা সমাজের অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের দোকানকে লাইব্রেরি বানানোর পেছনে রাজুর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই ঠিকই, কিন্তু আছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি। তিনি জানান, তাকে দেওয়া সেই অপমানের কথা তিনি এখনো ভোলেননি, তবে সেই অপমানই তাকে আজ মানুষের কাছে সম্মান এনে দিয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু করতে যা অন্যদের জীবনে উপকারে আসে। আজ রাজুর কাছে বই শুধু পড়ার উপকরণ নয়, বরং সেটি তার ব্যক্তিত্বের নতুন পরিচয়। সেলুনে আসা মানুষদের তিনি নিয়মিত পড়াশোনার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন, যা অনেকের ভাবনা বদলে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর এই লাইব্রেরির গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বইয়ের গুরুত্ব যে কত বড়, তা যেন রাজু হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছেন। তার এই ছোট্ট সেলুনটি এখন কেবল চুল কাটার জায়গা নয়, বরং এলাকার জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যারা তাকে অশিক্ষিত বলে তুচ্ছ করেছিলেন, তারা আজ রাজুর এই উদ্যোগ দেখে অবাক। রাজু প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনে নয়, বরং জানার আগ্রহ ও সৃজনশীল কাজের মধ্যেও রয়েছে। তার এই সাহসী পথচলা সমাজের জন্য এক বড় বার্তা নিয়ে এসেছে, যেখানে ঘৃণা ও অপমানের বদলে মানুষ মেধার জয়গান গাইছে।

বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯১ জন রোগী। একই সময়ে চিকিৎসারত অবস্থায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, গত এক দিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত এই রোগীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালেই আলাদা ইউনিট বা কর্নার চালু রাখা হয়েছে। তবে আক্রান্তের ক্রমবর্ধমান হার চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ রোগীই জ্বরের তীব্রতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। নিয়মিত ওষুধ, তরল খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গুর উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশা নিধন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর উচিত নিয়মিত মশা নিধনে কীটনাশক স্প্রে করা এবং ড্রেন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা। পাশাপাশি, বৃষ্টির জমে থাকা পানি যাতে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাসার আঙিনায় বা টবে পানি জমে থেকে সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ জ্বর ভেবে অনেকে দেরি করে হাসপাতালে আসেন, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, জ্বরের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে রোগীদের ঝুঁকি বেশি থাকে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগসহ সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্কুলের আঙিনা বা খেলার মাঠ যেন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল বিভাগের সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু মৌসুম দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বর্ষা বা বৃষ্টির পরবর্তী সময়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরকারি সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হটলাইন বা জরুরি সেবার মানদণ্ড বজায় রাখতে কাজ করছেন তারা।

সর্বশেষ
রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে মারধর ও ফটিকছড়িতে রাবার পাচার: দুই ঘটনায় জড়িতরা আটক অপমানের যন্ত্রণা থেকে আলোর পথে রাজুর সেলুন এখন জ্ঞানের পাঠাগার বরিশালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, প্রাণ হারালেন দুই নারী রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি রুহুল কবির রিজভীর ঝিনাইদহে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কাশিপুর, আহত ২৫ মানি লন্ডারিং মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারের এজলাসে হট্টগোল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ভূগোল অলিম্পিয়াডে রাশিয়ার পথে বাংলাদেশ কারাবন্দী সু চির জন্য রাজা চার্লসের বিশেষ উপহার মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার
Advertisement