সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তিন মাসের আগেই স্থগিত ছাত্রশক্তির চবি কমিটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশক্তির কমিটি গঠনের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই স্থগিত করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং শাখাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না—এমন কারণ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে।

কমিটি স্থগিতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখাটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ, বর্তমান কাঠামোকে প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়নি। তবে কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট তারিখ, স্থগিতের আনুষ্ঠানিক তারিখ কিংবা সিদ্ধান্তটি কে ঘোষণা করেছেন—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সময়সীমা ও সিদ্ধান্তের কারণের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বিবরণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কারণটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো সভাপতির নিষ্ক্রিয়তা। পাশাপাশি পুরো কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল একজন পদধারীর ভূমিকা নিয়ে নয়; শাখা কমিটির সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়েও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে বোঝা যায়। তবে কোন কাজ বা দায়িত্ব পালনে ঘাটতি ছিল, কিংবা কমিটির অন্য সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।

ছাত্রসংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি সাধারণত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখার কাঠামো হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের কমিটি প্রত্যাশিতভাবে সক্রিয় না থাকলে সংগঠনের স্থানীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ কমিটি স্থগিতের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রকাশিত তথ্যে ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু শাখাটির নির্দিষ্ট কর্মসূচি, সদস্যসংখ্যা বা কার্যক্রমের ফলাফল সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারিত হতে পারে। তবে কাউন্সিল কবে হবে, নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাব্য সময় কখন, কিংবা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কমিটি কবে দায়িত্ব নেবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বর্তমান কমিটি স্থগিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাজ কীভাবে চলবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। স্থগিতের সময় কোনো অন্তর্বর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—তা স্পষ্ট নয়। ফলে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাংগঠনিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় থাকবে, সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কমিটি স্থগিত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া সংগঠনটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পরবর্তী কমিটি গঠনের উদ্যোগ চলছে—এটিই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত অগ্রগতি। নতুন কমিটিতে কারা থাকবেন, নেতৃত্ব কীভাবে ঠিক হবে এবং আগের কমিটির স্থগিতের কারণগুলো কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রশক্তি কমিটি স্থগিত হয়েছে; কমিটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি এবং সভাপতির নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। নতুন কাঠামো ঘোষণা হলে শাখাটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের পরবর্তী দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন