চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রেশ ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বেরিয়ে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন রাতে ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা সক্রিয় ছিল এবং ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয়েছিল, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মীদের নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচার চেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার না পেয়ে যায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন থমথমে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিচার দাবিতে সরব রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই স্পর্শকাতর ঘটনায় কতটা দ্রুততার সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৬ অপরাহ্ণ