অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন: পিছিয়ে পড়েও জয় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াইয়ে জয় পেল লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে নিজ মাঠ অ্যানফিল্ডে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল অল রেডরা। ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের তোপে পড়ে ম্যাচের শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। খেলার চূড়ান্ত ফলাফল ৪-৩। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল লিভারপুল।
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভিয়ারিয়াল। এর ফলও তারা দ্রুত পেয়ে যায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটের মাথায় জর্জেস মিকাউতাদজে গোল করে ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে দেন। এই গোল হজম করার পর লিভারপুল ডিফেন্স কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেই চাপের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৯ মিনিটের সময় ব্যবধান বাড়ান সার্জি কারদোনা। মাত্র আধঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দুই গোল খেয়ে অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে তখন স্তব্ধতা। লিভারপুল সমর্থকরা তখন দলের কাছ থেকে এমন বিপর্যয়ের আশা করেননি। তবে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লিভারপুল তাদের আক্রমণের ধার বাড়াতে বাধ্য হয়। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফরোয়ার্ড লাইনে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও তার সতীর্থরা দুর্দান্ত সব আক্রমণ তৈরি করতে থাকেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের পায়ের জাদুতে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। এই গোলটি যেন পুরো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষভাগে লিভারপুল আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বিরতির আগে গোল সংখ্যা আর না বাড়লেও দলের আক্রমণের ধরনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে দ্বিতীয়ার্ধে এক দারুণ লড়াই অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লিভারপুল যেন অন্য এক রূপে ধরা দেয়। টানা আক্রমণ আর গোলের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পাল্টা আক্রমণ থেকেও ভিয়ারিয়াল চেষ্টা চালিয়েছে, তবে লিভারপুলের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেন। খেলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিভারপুল পরপর গোল করে স্কোরবোর্ডে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায় যখন তারা ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে পুঁজি করে একের পর এক লক্ষ্যভেদ করতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের এই জয় লিভারপুলের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও এভাবে ফিরে আসা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরে সচরাচর দেখা যায় না। জয়ের ফলে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, ম্যাচের অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রেখেও ভিয়ারিয়াল যেভাবে জয় হাতছাড়া করল, তা নিয়ে তাদের হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় রাত।
এই জয় লিভারপুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী রাউন্ডে যাওয়ার পথ সহজ করতে এই তিন পয়েন্ট তাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচ ও ম্যানেজমেন্ট এই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের প্রস্তুতির কৌশল নির্ধারণ করবেন। তবে সব মিলিয়ে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক উপভোগ্য এবং নাটকীয় ম্যাচ, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখেছিল।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]