খুঁজুন
, ,

দূনীর্তিবাজ কর্মচারীর ক্ষমতা ও আয়ের উৎস কোথায়

চাঁদপুর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ৬:০২ অপরাহ্ণ
দূনীর্তিবাজ কর্মচারীর ক্ষমতা ও আয়ের উৎস কোথায়
ফ্যাসিবাদি সরকারের দোসর কচুয়ার দুর্নীতির আরেক নাম মোহাম্মদ কাউসার
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোহাম্মদ কাউছারকে ঘুষ গ্রহন সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বদলী করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনের ১২ মে স্বাক্ষরিত বদলী আদেশে তাকে কচুয়া থেকে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একই পদে বদলী করা হয়। যার স্বারক নং-৩৮.০১.১৩০০.০০০.১৯.০২৯.২২।

জানা গেছে, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে লোকবল কম থাকায় মো. কাউছার একাই শিক্ষকদের ছুটি, বদলী, পদোন্নতিসহ সকল দাপ্তরিক কাজ করতেন।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকগন জানান, কাউছার টাকা ছাড়া কোন কাজ করতেন না। টাকাই যেন তার কাছে ছিল সকল উৎস, সব শিক্ষক তার কাছে ছিলেন জিম্মি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার পারভীন সুলতানার দাপটে কাউছার বিভিন্ন শিক্ষকদের নিকট থেকে ছুটি, বদলী ও পদোন্নতিসহ সকল ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে কাজ করতেন। তাকে টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদের হয়রানী করতেন। তার বিরুদ্ধে অফিসে বসে শিক্ষকের নিকট থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়া ও নিজ চেয়ারে বসে ধুমপানের ১মিনিট ১ সেকেন্ড এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, বিভিন্ন কাজে প্রায়ই তার কক্ষে যেতে হয়। অফিসে বসেই একের পর এক সিগারেট ধরান তিনি। তার একহাতে থাকে সিগারেট, অন্যহাতে সেবাগ্রহীতাদের ফাইলে স্বাক্ষর করেন। দুর্গন্ধে তার কক্ষে যাওয়া কষ্টকর। অফিসে যত লোকই থাকুক না কেন তিনি সবার সামনেই ধূমপান করেন। এটা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। ধূমপানের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলের মধ্যে।

তার পূর্বের কর্মস্থল হাজীগঞ্জ থেকেও দুনীর্তির দায়ে বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তিমূলক বদলী হয়েছিলেন কচুয়ায়। বর্তমানে কচুয়া শিক্ষা অফিস থেকে একই জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাকে বদলী করায় সকল শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তির নি:স্বাস দেখা দিয়েছে এবং অনেকে আনন্দিত হয়েছেন। একই সাথে দুনীর্তিবাজ কাউছারের বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীগন।

এই বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার বলেছিলেন তদন্ত কমিটি করে তার বিরুদ্দ্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তুু আদৌ পযর্ন্ত তার বিরুদ্দে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা  হয়নি।

এদিকে ফরিদগন্জ উপজেলা অফিস জেনে-শুনে একজন দূনীর্তিবাজ কর্মচারীকে যোগদান করতে দেননি। ফলে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার তাকে চাদঁপুর জেলা শিক্ষা অফিসে রাখতে চান বলে বিশ্বস্ত সূএের মাধ্যমে জানা গেছে। একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী কি করে হাজীগঞ্জে দুইটা পাচঁ তলা বাড়ী এবং তার নিজ গ্রামের আধুনিক ডিজাইন করে বিল্ডিং করেছেন ও অনেক অনৈতিক টাকার মালিক। তার এতো কোটি টাকার সম্পদের আয়ের উৎস কি। এই ব্যাপারে দুদকের প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনপূবর্ক আইনগত ব্যবস্থা ও অনুসন্ধন করা উচিত। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো তার এই ক্ষমতা ও দূনীর্তির প্রকৃত উৎস জেলা শিক্ষা অফিস চাঁদপুর।

এছাড়াও তদন্ত কমিটির বিষয়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনে সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগমকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। ঈদের পরপর তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

এদিকে বিভিন্ন অনিয়ম, প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহন ও ধূমপানের বিষয়ে জানতে তার ব্যবহৃত ০১৮২৫০০৬০৮৭ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক মেধাবী ছাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। লরির ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস উল্টে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ফুটেজে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। ৩ নভেম্বর সকালে ব্যস্ততম সড়কে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থী সীতাকুণ্ড এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা মিনিবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় বাসটি তাৎক্ষণিকভাবে উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন, তবে দুর্ভাগ্যবশত ওই ছাত্রীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহতের পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবারই পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের জন্মদিন পালন করা হয়েছিল। আনন্দের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এখন শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও স্বজনরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এই খবরে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তার সহপাঠীরা এমন দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রায়ই ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীতাকুণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষী লরি চালককে শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার পরপরই লরি চালক পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং লরি চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহতের ঘটনায় সীতাকুণ্ডের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।

নাগরিক তথ্যের সুরক্ষা ও জালিয়াতি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’র উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
নাগরিক তথ্যের সুরক্ষা ও জালিয়াতি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’র উদ্যোগ

দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে চলমান জালিয়াতি ও তথ্যের অপব্যবহার রোধ করতে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ নামক একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নাগরিকদের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডারকে একটি সাধারণ কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা কর সংক্রান্ত ফাইলের তথ্য বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোর কারণে অনেক সময় তথ্যের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, যা জালিয়াতি চক্রকে সুযোগ করে দেয়। প্রস্তাবিত ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সকল তথ্যভাণ্ডারকে একক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হবে। ফলে একজন নাগরিকের সব ধরনের বৈধ তথ্য একটি আইডির মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব হবে এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে একদিকে যেমন নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা চক্র যাতে অন্যের তথ্যের অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাঠামো এবং আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার কাজ করছে। এটি শুধু একটি আইডি নম্বর প্রবর্তন নয়, বরং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে নাগরিকদের সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তিতে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে খুব দ্রুতই এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারই অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নের ফলে দেশের প্রশাসনিক ও সেবামূলক কাজের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি। আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে এই ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সংকটে শিল্প ও আবাসিক খাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সংকটে শিল্প ও আবাসিক খাত

দেশের জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে চাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য এই টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত থাকবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষ এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বর্তমানেও দেশজুড়ে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামিটের টার্মিনালটি জাতীয় গ্যাস গ্রিডের অন্যতম বড় একটি উৎস। টার্মিনালটি বন্ধ থাকার এই তিন দিনে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমবে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাসের অভাব সরাসরি প্রভাব ফেলবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্নার কাজে। টার্মিনালটি বন্ধ থাকার প্রভাব কতটা তীব্র হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় ইতিমধ্যেই অনেক সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জরুরি মেরামতের কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিন দিনের এই বিরতি শিল্পখাতে বড় ধরনের উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কলকারখানায় গ্যাসের চাপের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদন প্রক্রিয়া চলে, তাই এই সরবরাহ ঘাটতি কারখানাগুলোর স্বাভাবিক কর্মযজ্ঞে ছন্দপতন ঘটাবে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকটের চিত্রটি আরও প্রকট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীতকাল আসার আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

গ্যাস সরবরাহের এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সাধারণত রক্ষণাবেক্ষণের সময় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যান্য উৎসগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। কিন্তু বিদ্যমান সংকটের মধ্যে সেই সক্ষমতা কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের শিপমেন্টের সময়সীমা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এলএনজি টার্মিনাল বন্ধের এই তিন দিন দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা চাইছেন, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয় এবং পরবর্তীতে সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না ঘটে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

সর্বশেষ
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত নাগরিক তথ্যের সুরক্ষা ও জালিয়াতি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’র উদ্যোগ সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সংকটে শিল্প ও আবাসিক খাত পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও আন্দোলনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খুলনায় মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা দগ্ধ বড়দিন পালনে আবেদনকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী একনজরে আজকের আলোচিত খবর ঢাকার রামপুরা এলাকায় বিটিভি ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন নিয়ে ভারতের সতর্কতা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, পদ্মা ব্যারেজের কাজ দ্রুততর
Advertisement