নাগরিক তথ্যের সুরক্ষা ও জালিয়াতি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’র উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে চলমান জালিয়াতি ও তথ্যের অপব্যবহার রোধ করতে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ নামক একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে থাকা নাগরিকদের বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডারকে একটি সাধারণ কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ কিংবা কর সংক্রান্ত ফাইলের তথ্য বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে। এই বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোর কারণে অনেক সময় তথ্যের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, যা জালিয়াতি চক্রকে সুযোগ করে দেয়। প্রস্তাবিত ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সকল তথ্যভাণ্ডারকে একক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হবে। ফলে একজন নাগরিকের সব ধরনের বৈধ তথ্য একটি আইডির মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব হবে এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে একদিকে যেমন নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা চক্র যাতে অন্যের তথ্যের অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হবে। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাঠামো এবং আইনি দিকগুলো পর্যালোচনার কাজ করছে। এটি শুধু একটি আইডি নম্বর প্রবর্তন নয়, বরং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে নাগরিকদের সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তিতে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে খুব দ্রুতই এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারই অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নের ফলে দেশের প্রশাসনিক ও সেবামূলক কাজের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। সরকারের এই ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং সচেতনতাও সমানভাবে জরুরি। আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে এই ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন