খুঁজুন
, ,

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ, তুলে ধরলেন চার কারণ

জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির বিশিষ্ট নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি দল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তার এই পদত্যাগপত্র প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সামান্তা শারমিন কেবল পদত্যাগ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং দল থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু মৌলিক কারণ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

সামান্তা শারমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরের পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ লালন করছিলেন। তিনি তার পদত্যাগের পেছনে চারটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত জোট করার বিষয়টি তার আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মূলত, এই জোটবদ্ধ রাজনীতিকে তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পরিপন্থী হিসেবে মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি বড় কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে নির্বাচন করার যে প্রবণতা এনসিপির মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামান্তা শারমিন মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্বতন্ত্র সত্তা ও বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা জরুরি। অন্য কোনো বড় দলের অনুগামী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে দলের নিজস্ব এজেন্ডা ও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এটি রাজনৈতিক দলের স্বাধীন অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

তৃতীয়ত, সামান্তা শারমিন নারী নেতৃত্বের মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তার অভিযোগ, দলের ভেতরে নারী নেতৃত্বকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখার ক্ষেত্রে এনসিপি ব্যর্থ হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার বিষয়টি তাকে পীড়া দিয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার জন্য দলের ভেতরে নারী-পুরুষের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

চতুর্থ ও সর্বশেষ কারণ হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সিল আয়োজন না করেই এনসিপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে অগণতান্ত্রিক এবং দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। কাউন্সিল ছাড়া এভাবে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া দলের তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে এবং এর ফলে দলের ভেতরে এক ধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্তা শারমিনের মতো একজন নেত্রীর এভাবে সরে দাঁড়ানো জাতীয় নাগরিক পার্টির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। তার এই পদত্যাগ দলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যখন দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত দলের ভাবমূর্তিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামান্তা শারমিনের পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হবে বা তিনি কোনো নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তার এই আহ্বানের পর দলের উচ্চপদস্থ কোনো নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

লন্ডনে শিশু নিপীড়নের দায়ে সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
   
লন্ডনে শিশু নিপীড়নের দায়ে সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড বৃদ্ধি

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার এক নতুন মোড় উন্মোচিত হয়েছে। শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সৈয়দ শাহরিয়ার আহমেদ নামের এক সাবেক গণিত শিক্ষককে আদালত নতুন করে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এই ব্যক্তি এর আগেও একই ধরনের গুরুতর অপরাধের দায়ে দীর্ঘ মেয়াদী সাজা ভোগ করছিলেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত এই ব্যক্তি লন্ডনের ইলফোর্ড এলাকার বাসিন্দা। নতুন করে আনা ৩৭টি শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এই অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেয়। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধ আইনত প্রতিষ্ঠিত হলো। বিচারিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, অভিযুক্তের এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্তত ১৮ জন কিশোরী।

এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কিশোরীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটনের দায়ে আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই সাজা ভোগ করার সময়েই নতুন অভিযোগগুলো সামনে আসে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। মেট্রোপলিটন পুলিশের নিবিড় তদন্ত এবং ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই শিক্ষককের কুকীর্তির বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। আদালতে বিচারক মামলার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকতা পেশার পবিত্রতাকে কলঙ্কিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং নিজের শিক্ষার্থীদের ওপরই ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ও সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণাদি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, যা তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া এবং অতিরিক্ত সাজা প্রদান ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থায় শিশু সুরক্ষা আইনকে আরও কঠোর ও শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাগত জীবনে গণিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত থাকলেও, আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছিলেন। আদালতে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

লন্ডনের এই রায়টি দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, শিক্ষাঙ্গনে কিংবা ব্যক্তিগত পরিসরে শিশুরা যদি কোনো ধরণের যৌন হয়রানির শিকার হয়, তবে অপরাধী যত প্রভাবশালী বা শিক্ষিতই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষে বিচারক তার রায়ে অভিযুক্তের অপরাধের ভয়াবহতাকে চিহ্নিত করে এই অতিরিক্ত সাজা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, অপরাধের সাথে জড়িত আরও কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কোনো নতুন অভিযোগ এলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কারাগারে তার পূর্বের এবং নতুন বর্ধিত সাজা ভোগ করছেন।

আইনশৃঙ্খলায় মনোযোগ না দিয়ে বিরোধীদল দমনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: জামায়াত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
   
আইনশৃঙ্খলায় মনোযোগ না দিয়ে বিরোধীদল দমনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: জামায়াত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অবনতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শুক্রবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বর্তমান সরকার এবং বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান অপরাধ কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে খুন, রাহাজানি এবং ত্রাস সৃষ্টির ঘটনা চরম আকার ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। অথচ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে মনোযোগ দিচ্ছেন বিরোধীদলের চরিত্র হননে। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি তার ওপর অর্পিত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতেন, তবে দেশের পরিস্থিতি এমন নাজুক পর্যায়ে পৌঁছাত না। মন্ত্রীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি কেবল দায়িত্বের অবহেলাই নয়, বরং ব্যর্থতা আড়ালের একটি সচেতন প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপানোর মাধ্যমে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের আমলে নতুন করে গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বেশি আগ্রহী বলে তিনি মনে করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার যে বেহাল দশা, তা সাধারণ মানুষকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জুবায়েরের ভাষ্যমতে, যখন জনগণের নিরাপত্তা প্রধান অগ্রাধিকার হওয়ার কথা, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এবং বিরোধীদলবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য দমনে সরকারের উদাসীনতা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। ফলে অপরাধীরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেটুকু তৎপরতা দেখা যায়, তার বেশিরভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন। জুবায়েরের মতে, সরকার যদি অবিলম্বে তাদের এই সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে দেশের অরাজকতা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। সবশেষে, তিনি সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করার হীন মানসিকতা ত্যাগ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে জনমনে ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শিশু যৌন নিপীড়নের আলামত রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেফতার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
শিশু যৌন নিপীড়নের আলামত রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেফতার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে আটক হয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল। ৮২ বছর বয়সী থমাসকে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরের আশপাশের এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুতর। তার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি এবং ভিডিও নিজের কাছে সংরক্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এই ধরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে থাকা ডিজিটাল আলামতগুলো প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই-বাছাই করার পরই ফেডারেল এজেন্টরা তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ফ্লোরিডার স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই অভিযানটি পরিচালনা করেছেন।

থমাস মার্কেল এর আগেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন, তবে এবার তাকে যে অভিযোগে আটক করা হয়েছে তা পুরো পরিবার ও রাজকীয় মহলে বড় ধরণের অস্বস্তি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই মেগান মার্কেলের সঙ্গে তার বাবার সম্পর্কের টানাপোড়েন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় ছিল। প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে মেগানের বিয়ের সময় থেকেই থমাস মার্কেল বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় থেকেছেন। কিন্তু এবার সরাসরি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের দায়ে আটকের বিষয়টি পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মোড় দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত কনটেন্ট সংরক্ষণ, উৎপাদন বা বিতরণ একটি অত্যন্ত গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে থমাস মার্কেলের ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। প্রবীণ এই ব্যক্তির স্বাস্থ্য এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মামলার পরবর্তী ধাপগুলো কেমন হবে, তা নিয়েও নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার পর থেকে ব্রিটিশ রাজপরিবার বা হ্যারি-মেগান দম্পতির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তারা বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলা এড়িয়ে চলেন। থমাস মার্কেলের এই গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়লেও, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘকাল ধরেই তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগ নেই। এই ঘটনাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

মামলার কার্যক্রম এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। থমাস মার্কেলকে রিমান্ডে নেওয়া হবে কিনা বা তার আইনজীবী কী ধরণের জামিনের আবেদন করবেন, তা জানার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফ্লোরিডার স্থানীয় আদালত থেকে শুরু করে ফেডারেল কোর্ট পর্যন্ত এই মামলার শুনানিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। আপাতত পুরো বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।

সর্বশেষ
লন্ডনে শিশু নিপীড়নের দায়ে সাবেক শিক্ষকের কারাদণ্ড বৃদ্ধি আইনশৃঙ্খলায় মনোযোগ না দিয়ে বিরোধীদল দমনে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: জামায়াত শিশু যৌন নিপীড়নের আলামত রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেফতার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক