যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তি খাতের সূচক নাসডাকের বড় দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি খাত নিয়ে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আসার আশঙ্কায় শেয়ারের দামে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বৃহস্পতিবার লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, নাসডাক সূচক প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো হারিয়েছে, যা গত বেশ কিছু সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পতন। এই অস্থির পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ভোটারদের দায়ী করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্প্রতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের বিজয় অর্জনের কারণেই বাজারের এই নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং তাদের নীতিমালার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে শেয়ারবাজারের এই পতনের মাধ্যমে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যেও ইঙ্গিত করেছেন যে, তাদের ভুল সিদ্ধান্তের মাসুল দিতে হচ্ছে পুরো অর্থনীতিকে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বাজারের এই অস্থিরতা কেবল রাজনৈতিক কোনো সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপট এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নাসডাকের এই পতনের পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যে ধরনের কড়াকড়ির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন, যার ফলে সূচক বেশ খানিকটা নিচে নেমেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সবসময়ই অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার দাবি জানিয়ে আসলেও, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক এই মন্দা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নাসডাকের এই ধসের পর অন্যান্য খাতের শেয়ারের ওপর এর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্যে বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারের আগামী দিনগুলো বেশ উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস বা নীতিনির্ধারকরা বাজার স্থিতিশীল করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]