ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার এক নতুন মোড় উন্মোচিত হয়েছে। শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সৈয়দ শাহরিয়ার আহমেদ নামের এক সাবেক গণিত শিক্ষককে আদালত নতুন করে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এই ব্যক্তি এর আগেও একই ধরনের গুরুতর অপরাধের দায়ে দীর্ঘ মেয়াদী সাজা ভোগ করছিলেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত এই ব্যক্তি লন্ডনের ইলফোর্ড এলাকার বাসিন্দা। নতুন করে আনা ৩৭টি শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এই অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেয়। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধ আইনত প্রতিষ্ঠিত হলো। বিচারিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, অভিযুক্তের এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্তত ১৮ জন কিশোরী।
এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কিশোরীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটনের দায়ে আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই সাজা ভোগ করার সময়েই নতুন অভিযোগগুলো সামনে আসে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। মেট্রোপলিটন পুলিশের নিবিড় তদন্ত এবং ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই শিক্ষককের কুকীর্তির বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। আদালতে বিচারক মামলার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, শিক্ষকতা পেশার পবিত্রতাকে কলঙ্কিত করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং নিজের শিক্ষার্থীদের ওপরই ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ও সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণাদি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল, যা তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া এবং অতিরিক্ত সাজা প্রদান ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থায় শিশু সুরক্ষা আইনকে আরও কঠোর ও শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাগত জীবনে গণিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত থাকলেও, আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছিলেন। আদালতে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
লন্ডনের এই রায়টি দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, শিক্ষাঙ্গনে কিংবা ব্যক্তিগত পরিসরে শিশুরা যদি কোনো ধরণের যৌন হয়রানির শিকার হয়, তবে অপরাধী যত প্রভাবশালী বা শিক্ষিতই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষে বিচারক তার রায়ে অভিযুক্তের অপরাধের ভয়াবহতাকে চিহ্নিত করে এই অতিরিক্ত সাজা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে, অপরাধের সাথে জড়িত আরও কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কোনো নতুন অভিযোগ এলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কারাগারে তার পূর্বের এবং নতুন বর্ধিত সাজা ভোগ করছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৬ অপরাহ্ণ