খুঁজুন
, ,

পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত তৈরি পোশাক শিল্পে গত কয়েক দিন ধরে যে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তা এখন অনেকটাই থিতু হওয়ার পথে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং কর্মস্থলে অসন্তোষের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া যে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রচেষ্টায় আগামী রবিবার থেকে শিল্পখাতটি আবারও তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিল্পমালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই রবিবার সকালে কারখানাগুলোর গেট খুলে দেওয়া হবে এবং পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। বিগত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করাই এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।

মূলত অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের বিষয়টি এই স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বেতন প্রদানের উদ্যোগটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মালিকদের ভাষ্যমতে, সঠিক সময়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারলে তাদের মধ্যে থাকা অসন্তোষ অনেকটাই প্রশমিত হবে এবং কারখানার ভেতরে কর্মপরিবেশ অনুকূল হবে। শ্রমিকদের দাবি ছিল যৌক্তিক এবং সেই দাবি পূরণে মালিকপক্ষও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

পোশাক শিল্প যেহেতু একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাত এবং এর সঙ্গে সরাসরি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত, তাই এই খাতের অচল অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অস্থিরতার দিনগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় যে সাময়িক ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কারখানায় অতিরিক্ত শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, শ্রমিকদের সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে খুব দ্রুতই এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। রবিবার থেকে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অটুট থাকবে এবং রপ্তানি আদেশগুলো সময়মতো পূরণ করা সহজ হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল কারখানার মালিকদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পোশাক শিল্পের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা সরকার এবং শিল্প মালিক—উভয়েরই অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই উৎপাদন কাজ চলতে থাকে।

সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মমুখর পরিবেশ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে একটি অস্থির সময়ের অবসান হতে যাচ্ছে বলে আশা করা যায়। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই শিল্পাঞ্চলে যারা শ্রম দিচ্ছেন, তাদের অধিকার রক্ষা এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও মালিকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পখাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে তিনি ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছেন বলে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই বৈঠকটি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপোড়েন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে এই ধরনের সামরিক আলোচনার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে যে, ট্রাম্প তার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার উপায়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন। তবে এই সম্ভাব্য সামরিক হামলার ধরন বা সময়সীমা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো আক্রমণ বা চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এই রণকৌশলটি মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান যেকোনো সময় তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের নিরাপত্তা টিমকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের অবস্থান এবং সেখানে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, ইরানের বর্তমান সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সেই হুমকি মোকাবিলার জন্য ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি খোলা রাখছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখনই জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন, তখন তা কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস দেয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ইরান কি ধরনের পাল্টা জবাব দেবে, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তেহরান অবশ্য মার্কিন হুমকির বিষয়টি সবসময়ই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান তাদের সীমান্ত ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন করে সামরিক হামলার আলোচনার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এই স্নায়ুযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্বনেতারা এখন পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন যাতে কোনো বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে।

হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
   
হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে একটি খাবার হোটেলের বেসিনের সামনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সার ডিলারের লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছেন রূপবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আকরাম হোসেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিলারশিপ পেতে হলে আবেদনকারীর নিজস্ব বা ভাড়ায় নেওয়া সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত জায়গাসম্পন্ন গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন যে স্থানটিকে সারের গুদাম হিসেবে দেখিয়েছেন, সেটি মূলত একটি সাধারণ খাবার হোটেলের অংশ। হোটেলের বেসিনের মতো ছোট ও অস্বাস্থ্যকর জায়গায় কীভাবে সারের মতো রাসায়নিক দ্রব্য মজুত রাখা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। সারের গুদাম হতে হলে সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই সব শর্তের কোনো বালাই নেই। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কৃষি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তিনি এমন অবিশ্বাস্যভাবে গুদামের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছেন।

ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের তদন্তের যে বিধান রয়েছে, সেটি কতটা কার্যকরভাবে পালিত হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরেজমিনে সেই জায়গা পরিদর্শনের পর সত্যতা যাচাই করে ডিলারশিপের সুপারিশ করার কথা। যদি তাই করা হতো, তবে একটি হোটেলের বেসিন কীভাবে গুদামের মর্যাদা পেল, তা সহজেই দৃশ্যমান হতো। সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে এবং যোগসাজশের মাধ্যমেই মূলত এই অনিয়মটি করা হয়েছে। এতে করে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফিলতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। নিয়ম ভেঙে এভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে, যখন কৃষকরা মৌসুমের সময় সারের জন্য হাহাকার করেন, তখন সঠিক গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা ছাড়া ডিলারশিপের লাইসেন্স দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকার দিকে নজর দিয়েছেন এলাকাবাসী।

সার ডিলার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে সার ব্যবসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হোটেলের বেসিনে সাইনবোর্ড লাগানোর এই ঘটনা জনসমক্ষে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ধরনের অনিয়ম যদি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কৃষক পর্যায়ে সারের সঠিক বিতরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল এবং এই জালিয়াতির পেছনে থাকা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

সাধারণত বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা উঠলে পর্যটকদের মনে প্রথমেই ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাদুঘরের নাম ভেসে ওঠে। ল্যুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন পর্যটকদের ভিড়ের দিক থেকে ইউরোপের জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত প্যালেস মিউজিয়াম। ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্থাপনাটি কেবল চীনের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পর্যটন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের নামীদামি জাদুঘরগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন বেইজিংয়ের এই প্যালেস মিউজিয়াম পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর বিশাল স্থাপত্যশৈলী এবং সংরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। মিং এবং চিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কয়েকশ বছর ধরে চীনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস প্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের যে উন্নয়ন ঘটছে, তাতে চীন সরকার তাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ফরবিডেন সিটিতে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে চীনের এই অর্জন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পর্যটকদের এখন কেবল শিল্পকলার জাদুঘর নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ ও বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্যালেস মিউজিয়ামের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দর্শনার্থীরা এখন এমন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করছেন যেখানে স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিলনমেলা দেখা যায়।

বেইজিংয়ের এই অর্জন কেবল জাদুঘরটির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো এশীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে যেমন চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে নতুন করে সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটন অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো এখন কর্তৃপক্ষর জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে ডিজিটাল টিকিটিং ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় যারা নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন বেইজিংয়ের এই নিষিদ্ধ নগরী বা প্যালেস মিউজিয়াম অবশ্যই প্রথম সারির একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ
পোশাকশিল্পে ফিরছে স্বস্তি: রবিবার থেকে পুরোদমে উৎপাদনের প্রত্যাশা ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের ছক কষছেন ট্রাম্প হোটেলের বেসিনে সারের গুদামের সাইনবোর্ড: ডিলারশিপ নিয়ে তোলপাড় সিরাজগঞ্জে বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে?