মা-ছেলের স্বপ্নের শেষ: বাংলাদেশে ডাক্তারি শিক্ষার পথে গন্তব্যে মৃত্যু
বুড়িচং উপজেলার কাবিলায় বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালবেলা এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জম্মু-কাশ্মীরের নিঘাত বেগম তার পুত্র আদনান আলতাফকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশে নিয়ে এসে, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তার অচেনা মৃত্যুর মুখোমুখি হন। নিঘাত বেগমের উদ্দেশ্য ছিল সন্তানকে স্থানীয় কোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে শেষ পর্যন্ত ডাক্তার হিসেবে সমাজের সেবা করতে দেখা, তবে তার স্বপ্নের পথে অপ্রত্যাশিত মেঘ ছায়া ফেলেছে।
মা ও পুত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল ভারতীয় রাজ্যের জম্মু-কাশ্মীর থেকে, যেখানে নিঘাত বেগমের পরিবার আর্থিকভাবে সীমিত ছিল। তিনি বাংলাদেশে সাশ্রয়ী শিক্ষার সুযোগের সন্ধানে ছিলেন, বিশেষ করে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা গ্রামকে লক্ষ্য করে। সেখানে পৌঁছে পুত্রকে স্থানীয় কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কোর্সে ভর্তি করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে, পুত্রের অজানা কারণে শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটায় এবং শেষ পর্যন্ত তার দেহের সঙ্গে মায়ের মুখোমুখি হওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, আদনান আলতাফের দেহে কোনো স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য পোস্টমর্টেম পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। মায়ের মতে, পুত্রের শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি কোনো চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি। নিঘাত বেগমের মুখে অশ্রু ভরা, তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানকে ডাক্তার বানাতে এখানে এসেছিলাম, কিন্তু তার শেষ দেখার সময়ই আমি তার জীবনের শেষ দেখেছি।”
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে তদন্তের আওতায় রাখার কথা জানিয়েছে। কুমিল্লা জেলার পুলিশ প্রধান জানান, “মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে এবং যদি কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে মায়ের সঙ্গে লাশটি স্থানীয় হসপিটালের মরণোত্তর বিভাগে রাখা হয়েছে, এবং তিনি লাশ নিয়ে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই ঘটনা দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নীতি নির্ধারণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
নিঘাত বেগমের পরিবার এখন শোকাহত, তবে তিনি দাবি করছেন যে তার পুত্রের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সিদ্ধান্তে আসবেন না। তিনি আশা করছেন যে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং সত্য উদ্ঘাটিত হবে, যাতে অন্য কোনো পরিবার একই দুঃখের মুখোমুখি না হয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]