নতুন প্রজন্মের মেধা ও দেশপ্রেমই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের কাণ্ডারি হিসেবে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাবে এবং নিজ মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গঠনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের মেধা, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাষ্ট্রনায়ক মনে করেন, আজকের মেধাবী তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।

শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্যমতে, খেলাধুলা সুস্থ জীবনধারা চর্চার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হবে, যা ভবিষ্যতে তাদেরকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে এই বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে যে, আগামী প্রজন্ম যেন যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মানসিকতা নিয়ে বড় হতে পারে।

এদিকে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বাগেরহাটের মোংলা বন্দর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মোংলা বন্দরে দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং এর আনুষঙ্গিক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।

বন্দর এলাকা পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক জেটি নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কেবল স্থানীয় অর্থনীতি নয়, বরং পুরো দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। প্রধানমন্ত্রী এদিন সফরকালে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো কাজ শেষ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে সরকার শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো—এই তিন খাতের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। একদিকে মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, অন্যদিকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও দিকনির্দেশনা জাতীয় উন্নয়নের অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই যে তারুণ্য ও অবকাঠামোর ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন