শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
বাংলাদেশের শ্রম খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার গঠিত নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই বোর্ড সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে সক্ষম হবে।
সম্প্রতি এক আলোচনায় উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, মজুরি বোর্ডকে সম্পূর্ণ নির্মোহ এবং স্বচ্ছতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি মজুরি কাঠামো সুপারিশ করা যা শ্রমিকদের জীবন ধারণের জন্য বাস্তবসম্মত এবং শিল্পের সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে মজুরি বোর্ডে যারা কাজ করছেন, তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। সেখানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, তা যেন কোনো একক পক্ষের স্বার্থের দিকে ঝুঁকে না পড়ে বরং সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বাস্তবতাকে মাথায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো তৈরি করাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই প্রতিনিধি মনে করেন, মজুরি বোর্ডের সদস্যরা সম্পূর্ণ নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করলে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের ধৈর্য ধারণের এবং বোর্ডের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি স্থিতিশীল শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য পূরণে মজুরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করার সংস্কৃতি আমাদের শিল্প খাতে আরো বেশি প্রয়োজন। মজুরি বোর্ড যখন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে, তখন সরকার তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে কোনো শ্রমিক বা মালিকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]