খুলনায় মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা দগ্ধ
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। মনিরুল ইসলাম বর্তমানে দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার ভোরে নিজের বাড়ির সামনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার খুব ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে তিনি লক্ষ্য করেন, তার বাড়ির প্রধান দরজার সামনে একটি মুড়ির প্যাকেট পড়ে আছে। অপরিচিত এই বস্তুটি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি কৌতূহলী হয়ে ওঠেন এবং সেটি হাতে তুলে নেন। এরপর তিনি প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখার চেষ্টা করতেই প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এলাকায় উপস্থিত হন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিস্ফোরণের ধরন ও এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই প্যাকেটটিতে বিস্ফোরক জাতীয় কোনো বস্তু ছিল কি না বা এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এমন শান্ত এলাকায় হঠাৎ এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়ির সামনে এমন বস্তু পড়ে থাকা এবং সেটি বিস্ফোরণ ঘটার বিষয়টি স্থানীয়রা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আহত মনিরুল ইসলামের সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]