খুঁজুন
, ,

প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা খলিফা ওমর (রা.) সম্প্রতি প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ধর্মীয় জ্যেষ্ঠতা কোনো প্রশাসনিক পদে যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকতা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ আলাদা বিষয় বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

খলিফা ওমর (রা.) বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে সৎ হওয়া স্বাভাবিক, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এনে দেয় না। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে এমন একটি নীতি প্রস্তাব করেছেন যেখানে প্রশাসনিক পদে নিয়োগের সময় ধর্মীয় মর্যাদা নয়, বরং প্রাসঙ্গিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করা হবে। এই নীতি অনুসারে, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর মানদণ্ড স্থাপন করা হবে।

দুর্নীতির মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অযোগ্য ব্যক্তিরা যখন প্রশাসনিক ক্ষমতা পায়, তখন স্বার্থপরতা ও অনৈতিক আচরণ সহজে প্রবেশ করে। তাই, তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা বাড়াতে, নিয়মিত অডিট ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিম্নলিখিত কয়েকটি মূল দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন: প্রথমত, সকল প্রশাসনিক পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা যাচাই করা হবে; দ্বিতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের সংস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকে; তৃতীয়ত, নিয়মিতভাবে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও অডিট পরিচালনা করে দুর্নীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি সনাক্ত করা হবে; চতুর্থত, দুর্নীতির অভিযোগের জন্য গোপনীয় হটলাইন ও দ্রুত তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

খলিফা ওমর (রা.) এই নীতিগুলোকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যম নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন প্রশাসন সৎ ও দক্ষ হবে, তখন সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এভাবে, ধর্মীয় নৈতিকতা ও আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে।

এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অনেকেই খলিফা ওমরের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করে বলেছেন যে, ধর্মীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে কিছু সমালোচকও উল্লেখ করেছেন যে, নীতি বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে তা কেবল কথায়ই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তাই, খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতিগুলোকে কার্যকর করতে সরকার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।

সারসংক্ষেপে, খলিফা ওমর (রা.) ধর্মীয় জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন এবং দুর্নীতি দমনের জন্য merit‑based নিয়োগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এই নীতি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রশাসনিক দুর্নীতি কমে সমাজে ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
   
গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম জনপ্রিয় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক নিজেদের ডিজিটাল সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বাজারে নিয়ে এসেছে। মুক্ত নামের এই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে গ্রাহকদের জন্য নতুন এক ডিজিটাল অভিজ্ঞতার সূচনা হলো। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় সহজ ও সাবলীল সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে এবং গ্রাহকদের চাহিদাও বাড়ছে। বাংলালিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুক্ত অ্যাপটি মূলত ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এর ইন্টারফেস বা ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে যে কেউ খুব সহজেই অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচার ও সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারেন। প্রযুক্তিপ্রেমী গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেই এতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব ফিচার, যা আগের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং উন্নত।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল অপারেটরদের এখন কেবল কথা বলার বা ইন্টারনেট ডাটা বিক্রি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং গ্রাহকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলালিংক সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। মুক্ত অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গা থেকেই পেয়ে যাবেন। এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং ডিজিটাল লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্টের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

অ্যাপটি চালুর সময় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ফিডব্যাক এবং বর্তমান সময়ের ডিজিটাল ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করেই এই নতুন রূপটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব কম ডাটা খরচ করে এবং ধীরগতির ইন্টারনেটেও অ্যাপটি যেন মসৃণভাবে চলে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলালিংকের এই নতুন পদক্ষেপে গ্রাহকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যক্তিগত এবং দাপ্তরিক কাজগুলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। অ্যাপটি খুব দ্রুতই সব গ্রাহকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং তারা এখন সহজেই বিভিন্ন অ্যাপ স্টোর থেকে এটি নামিয়ে নিতে পারবেন। এই ডিজিটাল উদ্ভাবন বাংলালিংকের বাজার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এই অ্যাপের মাধ্যমে আরও নতুন ও চমকপ্রদ ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলালিংকের মুক্ত অ্যাপটি বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল চাহিদার একটি সময়োপযোগী সমাধান। এটি গ্রাহকদের জীবনযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজগুলোকে করে তুলবে আরো সহজ ও আনন্দদায়ক। অপারেটরটি তাদের গ্রাহকদের ক্রমাগত উন্নত সেবা প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, এই নতুন অ্যাপ উন্মোচন সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
   
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায়

পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিকল্পনাটি এবার দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই সেতুর নকশা ও নির্মাণের ধরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাওয়া এই দ্বিতীয় সেতুটি ওয়াই-টাইপ বা ওয়াই-আকৃতির হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সরকার এই মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজটিও সমান গুরুত্বের সাথে এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ এবং দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পাশাপাশি যমুনা নদীর ওপরও আরেকটি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-টাইপ সেতুর নকশা মূলত একাধিক গন্তব্যকে একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে সংযুক্ত করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। পদ্মা নদীতে এই ধরনের নকশা ব্যবহারের ফলে নদীর দুই পারের যোগাযোগ সহজতর হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। সরকার এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা পদ্মা ও যমুনা নদীর দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও এর নানাবিধ কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি মূলত কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা সেতুর কাজের সাথে তাল মিলিয়ে সম্পন্ন করা হবে।

সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। যোগাযোগ অবকাঠামোর এই উন্নয়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত ডিজাইন এবং নির্মাণ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে আপাতত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই মেগাপ্রকল্পগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
   
ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি

সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও দুই হাজার ১০ জন রোগী। মূলত সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী এই তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩৯ জনে পৌঁছেছে। বছরের এই সময়ে এসেও ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ার বিষয়টি নীতিনির্ধারক ও চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমী রোগ নেই, এটি সারা বছরই জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। রোগীদের মধ্যে জ্বর, হাড়ের ব্যথা এবং চরম অবসাদের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে অবহেলা করায় অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে, যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ায় শয্যা সংকটও তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই সাথে বহু রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ, কিংবা ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মশার উপদ্রব কমাতে সিটি কর্পোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, কারণ ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা সাধারণত দিনের আলোতে কামড়ায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস করার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার। তবে ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সররাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যে কোনো জ্বরে আক্রান্ত হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে।

সর্বশেষ
গ্রাহকদের জন্য নতুন অ্যাপ মুক্ত আনল বাংলালিংক দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নকশা হবে ওয়াই-টাইপ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি দুই হাজারের বেশি চীনে ফুলেফেঁপে উঠছে নতুন ধারার রোমান্স অর্থনীতি ইতালি দূতাবাসের প্রশিক্ষণ সেমিনার: কোটার বাইরেও বাংলাদেশিদের নতুন সুযোগ গাজীপুরে মহাসড়কে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: আহত ৩০, যান চলাচল ব্যাহত প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট
Advertisement