ছয় মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার প্রতি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মতো আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। সোমবার এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে সিলিন্ডারপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ভোক্তাকে বাড়তি ৭১৯ টাকা গুনতে হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় পুরো অংশই আমদানিনির্ভর এলপিজির ওপর নির্ভর করে মেটায়। ফলে বিশ্ববাজারের দামের হেরফের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব দ্রুত পড়ে। যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে বা দাম বৃদ্ধি পায়, তার উত্তাপ বাংলাদেশের ভোক্তাদের সরাসরি বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
গত দুই মাসের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কেবল নভেম্বর মাসের শুরুতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি রান্নার গ্যাসের জন্য একটি বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত এই জ্বালানি পণ্যটির ক্রমাগত দাম বাড়ার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে বাজেটের সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এলপিজি আমদানিতে শুল্ক কাঠামো এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে না এলে ভোক্তাদের স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ কম। বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ গ্যাসের উচ্চমূল্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচে। যদিও সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বারবার এলপিজির দাম সমন্বয় করার কথা জানায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কখন স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার উপায় নেই। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে বোঝা যায়, যতক্ষণ না পর্যন্ত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হচ্ছে, ততক্ষণ বাংলাদেশে এলপিজির মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ভোক্তারা এখন সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থার প্রত্যাশা করছেন যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]