শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের ছাড় নয়: পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের শিল্পাঞ্চলে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের লক্ষে ইতিমধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সেই বোর্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আইনগতভাবে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরেও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রকৃত আন্দোলনকারী হিসেবে দেখছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার বিকেলে এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত শ্রমিকরা সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করে থাকেন, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। কিন্তু কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে শিল্পাঞ্চলে অরাজকতা তৈরির পাঁয়তারা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এই বিশৃঙ্খলার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে এবং যারা সরাসরি অস্থিতিশীলতা তৈরিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে পুলিশ।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, শিল্পকারখানা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই খাতকে রক্ষা করা এবং সুষ্ঠু উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। কেউ যেনো শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে শিল্প এলাকায় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা না করতে পারে, সে বিষয়ে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জোরপূর্বক কাজ বন্ধের মতো কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় প্রশাসন এবং শিল্প মালিকদের সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা বা দাবি থাকলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ বা কারখানার সম্পত্তি ধ্বংসের মতো সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অবনতির দিকে নিয়ে যায়, যা সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিল্প এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অশুভ চক্র যাতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। যারা এই অস্থিরতার মূল হোতা, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অযৌক্তিক কোনো অস্থিতিশীলতায় জড়ালে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিল্প এলাকা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন