শিল্পাঞ্চলগুলোতে টানা তিন দিন ধরে চলমান অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত চার শতাধিক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার এই অশান্ত পরিস্থিতির তৃতীয় দিনে এসে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। তারা বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কিছু স্থানে উত্তেজিত জনতা সড়ক বিভাজক ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া বেশ কিছু যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও বিক্ষোভকারীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে হিমশিম খেতে হয় তাদের।
গাজীপুর ও সাভারের মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও শ্রমিকদের অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে একদিনের ছুটি ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তা বর্ধিত করতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং সাধারণ কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, হঠাত করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক কারখানায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক অসন্তোষের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিল্প পুলিশ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কগুলোতে শত শত পণ্যবাহী গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল, তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা চলছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ পূর্বাহ্ণ