রাজধানীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৫
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৪০৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন থানায় ৬২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রতিটি অপরাধ বিভাগের নিজস্ব এলাকাভিত্তিক অভিযানে এই বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশের গোয়েন্দা শাখাগুলো মাদক ব্যবসা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মিরপুর অপরাধ বিভাগে সবচেয়ে বেশি অভিযান পরিচালনার খবর পাওয়া গেছে, যেখান থেকে ১৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর পরেই তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৯ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বিভাগের মধ্যে লালবাগ থেকে ৪০ জন, মতিঝিল থেকে ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৩৪ জন, উত্তরা থেকে ২০ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানেও ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রেফতার ও মামলার ঘটনাগুলো নিয়মিত পুলিশি টহলের একটি অংশ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের ধরতে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এই ধরনের চিরুনি অভিযান নিয়মিত পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারের সংখ্যা বা মামলার ধরন নিয়মিত পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মহানগর পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরাতে এবং অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে ডিএমপি এ ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]