ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা শ্রমিক অবরোধের অবসান হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে সোমবার দুপুরে মহাসড়কটি যান চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয়। এর আগে সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক এবং পল্লী বিদ্যুৎসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছিল, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল আটকে দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে যে হারে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তাতে তাদের বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি পূরণ এবং নতুন কাঠামোতে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির নিশ্চয়তা চেয়ে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়, যা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিজিবি এবং পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং বারবার অনুরোধের পরও শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় এবং শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে মহাসড়কের ওপর থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়া হয়। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং যান চলাচল আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
স্থানীয় শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকদের এই অসন্তোষ নিরসনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুনরায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো অনেক শ্রমিক তাদের দাবি পূরণের আশ্বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৫ অপরাহ্ণ