কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া, মেয়ের পর না ফেরার দেশে মা
কুড়িগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাণ হারালেন মা। দুর্ঘটনায় সাত বছরের মেয়ের মৃত্যুর মাত্র একদিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন মা আদুরী রাণী।
সড়ক দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী হলো কুড়িগ্রাম। গত কয়েক দিন আগে সংঘটিত এক দুর্ঘটনায় সাত বছরের শিশু কন্যাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার প্রাণ হারিয়েছেন মা আদুরী রাণী (৩৫)। টানা একদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় শোকের এক গভীর ছায়া নামিয়ে এনেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি পরিবারের এমন বিনাশ মেনে নেওয়া কঠিন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে, যখন কুড়িগ্রামে সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় আদুরী রাণীর সাত বছর বয়সী মেয়ে মনিকা গুরুতরভাবে আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। শিশু সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা তখন থেকেই শোকে পাথর হয়ে ছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর মা আদুরী রাণী নিজেও দুর্ঘটনার ফলে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরেও শেষ রক্ষা হয়নি। আজ মঙ্গলবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মা ও মেয়ের এই বিয়োগান্তক পরিণতি পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর থেকে স্বজনদের আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কুড়িগ্রামের রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি অনেকগুলো পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। কুড়িগ্রামের এই ঘটনাটি তেমনি একটি উদাহরণ, যেখানে মা ও মেয়ের এমন অকাল মৃত্যুতে নিভে গেল একটি হাসিখুশি সংসারের সব আশা। মৃতদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং জানাজা বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তারা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]