খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা ও তার মেয়ে। এ ঘটনায় বাসটিতে আগুন লেগে যায়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তার আদরের মেয়ে। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়ার পাঠানিপুল এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মধ্যে আকস্মিক এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের অবস্থা ভয়াবহ ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

সংঘর্ষের পরপরই যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে যেতে পারলেও গাড়িটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে ততক্ষণে বাসটির উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তবে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা ওই এলাকার সিএনজি যাত্রী ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। উদ্ধার কাজ পরিচালনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে স্থানীয়রাও সহায়তা করেন। তবে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বা সহকারীরা পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বাসে আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়েছিল কি না বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মহাসড়কের ওই এলাকায় প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যার জন্য চালকদের বেপরোয়া গতিকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নিহতের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পরিবারের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে আবারও গুরুত্বারোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা

ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধের দীর্ঘ ইতিহাসে বহু বীরত্বগাথা ও করুণ পরিণতির গল্প ছড়িয়ে আছে। তবে সম্প্রতি যে ঘটনার কথা সামনে এসেছে, তা যেন হার মানায় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। এক ইউক্রেনীয় সেনা তার অসীম সাহস ও টিকে থাকার ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে মৃত্যুপুরী থেকে কেবল ফিরে আসাই নয়, বরং চিকিৎসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রবল প্রতিকূলতার মাঝে নিজের আঘাতপ্রাপ্ত পা নিজেই অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন এই যোদ্ধা। এরপর প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারে একটি ড্রোনকে বাহন বানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছান তিনি।

যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ আট মাস চরম বিপর্যয়ের মধ্যে কাটিয়েছেন এই সেনা। জানা গেছে, তিনি একটি বয়লারের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে অবস্থান করছিলেন। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন এই আট মাস তার জন্য ছিল এক দীর্ঘ লড়াই। সেই গর্তের অন্ধকারে বসেই নিজের ক্ষতবিক্ষত পা নিজেই অস্ত্রোপচার করেন তিনি। সাধারণ কোনো সরঞ্জাম দিয়ে এই কাজ করা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণাটুকু কাজে লাগিয়ে নিজের অঙ্গহানি করতেও তিনি পিছপা হননি।

নিজের পা অস্ত্রোপচার করে বিচ্ছিন্ন করার পর তার প্রয়োজন ছিল দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো, কারণ ওই অবস্থায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি তার জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। ছয় পাখার একটি বিশাল ড্রোনের সাথে নিজেকে যুক্ত করে আকাশপথকে বেছে নেন তিনি। প্রায় ১৫ কিলোমিটারের আকাশপথ পাড়ি দিয়ে তিনি অবশেষে পৌঁছান নিরাপদ আশ্রয়ে। ড্রোনটির নিখুঁত পরিচালনার মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে আনা হয় ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর হাতছানি থেকে।

ইউক্রেনীয় এই সেনার এই অসাধ্য সাধনের ঘটনাটি আধুনিক সামরিক ইতিহাসের একটি আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি এবং মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি কীভাবে চরম বিপদের দিনে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। তার এই কাহিনি যেমন একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে তুলে ধরছে, তেমনি অন্যদিকে মানুষের বেঁচে থাকার অদম্য জেদকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন শুধু নজরদারি বা আক্রমণের জন্য নয়, বরং এই ধরনের জীবন রক্ষাকারী অপারেশনেও যে দারুণ কার্যকর হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

দীর্ঘ আট মাস বয়লারের গর্তে লুকিয়ে থাকার দিনগুলোতে তিনি কী পরিমাণ মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, তা কল্পনা করাও দুষ্কর। খাবার ও পানির অভাব, নিয়মিত চিকিৎসা না পাওয়া এবং সব সময় শত্রুসৈন্যের আক্রমণের আতঙ্ক—এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল এক মহাকাব্যিক লড়াই। এই সেনা বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তার এই ফেরার পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ, কিন্তু প্রযুক্তি আর সাহসের মেলবন্ধনে তিনি আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার এই ঘটনা সারা বিশ্বে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং প্রতিকূলতায় টিকে থাকার নজির হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট

ফ্রান্সে চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়ভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয় এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, তার দোকানে প্রায় ৯০ হাজার ইউরো সমমূল্যের পণ্য মজুদ ছিল। হামলাকারীরা দোকানটিতে প্রবেশ করে সবকিছু তছনছ করে ফেলে এবং সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে ওই ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন এবং তিনি এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দাবি, এই ধরনের হামলা কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দকেও ব্যাহত করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেও ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না। অনেকের মতে, এই অরাজক পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীদের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ীরা তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সে প্রবাসীরা সাধারণত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হঠাৎ করে ঘটা এই সহিংসতা তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং সামগ্রিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ও স্থায়ী নিরাপত্তা প্রয়োজন।

ফ্রান্সের বর্তমান অস্থিরতা যে কেবল স্থানীয়দের জন্য নয়, বরং সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্যও কতটা উদ্বেগজনক হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় তারা প্রবাসে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তা কামনা করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভালো বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ভালো বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

মানুষের জীবনে চলার পথে বন্ধুত্বের প্রভাব অপরিসীম। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আমরা নানা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই, কিন্তু সবার সঙ্গ আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই সঠিক বন্ধু নির্বাচন আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। সঠিক বন্ধু বা ভালো ‘বন্ধু-সার্কেল’ কীভাবে তৈরি করবেন এবং এর গুরুত্ব কতটা, তা নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের আচরণের ওপর বন্ধুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় তারা নিজেদের আলাদা একটি জগত তৈরি করতে চায় এবং পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো সন্তানকে ভালো ও ক্ষতিকর বন্ধুর পার্থক্য বুঝতে শেখানো। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে তারা যেকোনো বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারে। তারা কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে, তাদের আচরণের ধরন কেমন, এসব বিষয়ে সরাসরি খবরদারি না করে বরং কৌশলে নজর রাখা উচিত। সন্তানকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা নিজের ভালো-মন্দের বিচার করতে শেখে এবং ভুল পথে চালিত বন্ধুদের থেকে সতর্ক থাকতে পারে।

ইসলামি দর্শনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। ইসলামে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, নৈতিকতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর আরশের নিচে যারা ছায়া পাবেন, তাদের মধ্যে সেই দুই বন্ধুও অন্তর্ভুক্ত, যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবেসেছেন। তাদের এই ভালোবাসার ভিত্তি ছিল কেবল ধর্মীয় মূল্যবোধ। তারা আল্লাহর জন্য একত্র হয়েছেন এবং আল্লাহর জন্যই আবার বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রকৃত বন্ধুত্বের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত একে অপরকে সৎপথে রাখা এবং পরকালের পাথেয় অর্জনে সহায়তা করা।

বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল স্বার্থসিদ্ধি বা আনন্দ-ফূর্তির চিন্তাভাবনা করলে দীর্ঘমেয়াদে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। যারা জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকে এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করে, তারাই প্রকৃত বন্ধু। ভালো বন্ধু বা বন্ধু-সার্কেল গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি মূলত পারস্পরিক বিশ্বাস ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের ওপর নির্ভর করে। কোনো ব্যক্তি যখন এমন কোনো বন্ধু খুঁজে পায় যার সঙ্গে তার আদর্শিক মিল রয়েছে এবং যে তাকে ভুল থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম, তখন সেটিই জীবনের এক বড় প্রাপ্তি।

বন্ধুত্ব মানেই কেবল একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা সময় কাটানো নয়; বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং একে অপরের উন্নয়নে সাহায্য করার মানসিকতা থাকা। বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে এই শিক্ষাটি আরও বেশি প্রয়োজন। কারণ, ভুল পথে ধাবিত বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও জীবনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, তাদের সঙ্গীদের ব্যাপারে সচেতন থাকা এবং তাদের মধ্যে এই বোধ তৈরি করা প্রয়োজন যে, ভালো বন্ধুর সঙ্গে চললে মানুষ নিজেও ভালো হয়ে ওঠে।

পরিশেষে, বন্ধুত্ব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও তা নির্বাচনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ইসলামি মূল্যবোধ হোক বা আধুনিক মনস্তত্ত্ব—সবখানেই সৎসঙ্গের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভালো বন্ধু নির্বাচন কেবল আমাদের বর্তমান জীবনকে সুন্দর করে না, বরং আমাদের চরিত্র ও ব্যক্তিত্বকে উন্নত করে। তাই বন্ধু সার্কেল তৈরি করার সময় এমন মানুষ বেছে নেওয়া উচিত, যারা আমাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এবং দুঃসময়ে পাশে থাকবে।

সর্বশেষ
অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি: পায়ে ক্ষত নিয়ে নিজেই অস্ত্রোপচার, ড্রোন ব্যবহার করে মৃত্যুপুরী থেকে ফেরা ইউক্রেনীয় সেনা ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট ভালো বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা এবং ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে রিকশাচালক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে দীপু মনি চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস ৩১ দিনে অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল, অভিযুক্ত চারজনের দুইজন কিশোর সীমান্তে নতুন করে উত্তাপ, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চোরাই ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ যুবক আটক দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুমকির মুখে অমিতাভ বচ্চন
Advertisement