লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় প্রকৌশলী বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
কুমিল্লার লাকসামে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ট্রেনের বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পেছনে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর, রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রেললাইন মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় যে সতর্কতা ও পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন, তা মানা হয়নি বলেই কর্তৃপক্ষের ধারণা।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, লাকসাম এলাকায় রেলপথে নিয়মিত মেরামতের কাজ চলমান ছিল। নিয়মানুযায়ী, রেললাইনে যেকোনো ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত কাজ পরিচালনার সময় অবশ্যই রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিক অবহিত করতে হয়, যাতে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ট্রেন চালকদের সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্ঘটনাস্থলে মেরামতের কাজ চললেও স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী কন্ট্রোল রুমকে কোনো প্রকার তথ্য দেননি। ফলে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন গাফিলতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেরামতের খবর গোপন রাখা এবং সঠিক সময়ে কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক না করার কারণেই লাইনচ্যুতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষায় এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং রেলওয়ে লাইন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে রেলওয়ে প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। রেলওয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রেলপথে নির্বিঘ্নে ট্রেন চলাচল বজায় রাখা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি বা দায়িত্বহীনতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]