খুঁজুন
, ,

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশব্যাপী যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সারা দেশে যেভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সময়সূচী মানার কথা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে আরও এক সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল যে, ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট বিশ্ববাজারে রয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও পড়েছে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করাটাই এখন বড় অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এর পরেই একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সময়সূচী ঘোষণা করা হবে, যা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে পালনের চেষ্টা করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেল ও কয়লা সরবরাহে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এখন চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একটি যৌক্তিক এবং স্থিতিশীল রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আগেই। এছাড়া শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক সপ্তাহের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতাগুলো অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত কোনো উন্নতি না হওয়ায় দেশের ভেতরে লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এই সময় চাওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
   
মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উৎসবের আনন্দ সবার জন্য হলেও সামর্থ্যহীন মানুষের জীবনে তা অনেক সময়ই থেকে যায় অধরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে, সেখানে শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ যেন তাদের কাছে বিলাসিতা। এমন বাস্তবতায় মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পূজার বাজার হাতে পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের দুই শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের হিন্দু পরিবারের সদস্যদের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়’-এর উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়। মাত্র পাঁচ টাকায় পাঁচ ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ পান সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো।

আয়োজনে প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে টোকেনের মাধ্যমে পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচটি পণ্য পোলার চাল, চিনি, তেল, নারকেল ও একটি মুরগি। নামমাত্র মূল্যে এসব পণ্য পেয়ে অনেকের কাছে এবারের পূজার প্রস্তুতি হয়ে উঠেছে কিছুটা সহজ, আর উৎসবের আনন্দ পেয়েছে নতুন মাত্রা।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর, সায়মুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও অতিথিরা।

বাজার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত রমেশ বলেন, পাঁচ টাকায় এতগুলো বাজার পাব, কখনো চিন্তা করিনি। যারা এমন আয়োজন করেছেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ। এই বাজার দিয়ে আমরা এবারের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারব।

রমেশের এই কথায় ফুটে ওঠে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আর সামান্য সহায়তায় আনন্দ খুঁজে পাওয়ার গল্প। যে উৎসবের বাজার অনেক পরিবারের কাছে বড় আর্থিক চাপ, সেই বাজারই পাঁচ টাকায় হাতে পেয়ে তাঁর মতো মানুষের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক কিংবা ভোজের আয়োজনে নয়; বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিহিত। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাঁরা মনে করেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত আশপাশের অসহায় পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখা। কারও সামর্থ্য বেশি, কারও কম কিন্তু আন্তরিকতা থাকলে সামান্য সহযোগিতাও একটি পরিবারের উৎসবের আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে বৈষম্যহীন, সহমর্মী ও সুন্দর সমাজ।

সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা কাজল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাগরও এ উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তুলে ধরেন।

কাজল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজন সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে যখন অনেক পরিবার পূজার কেনাকাটায় সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতায় পড়ে, অন্যদিকে তখন সামান্য উদ্যোগও তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাগর বলেন, পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচটি পণ্য পাওয়ার এই আয়োজন কেবল বাজার বিতরণের ঘটনা নয়  এটি অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহরে। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে কোনো পরিবারকেই যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে না হয়। আমরা প্রত্যেক বছর এই আয়োজন করে থাকি।

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
   
রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না

বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে হাইকোর্ট। সম্প্রতি এক শুনানিকালে আদালত বাংলাদেশ রেলওয়ের এমন অব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, রেল কর্তৃপক্ষ এই অনিয়ম দেখেও নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। মূলত ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত।

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রেলওয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রেলের যাত্রীসেবা এবং টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে। ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি নতুন নয়, কিন্তু বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এটি বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্ট এদিন শুনানিতে প্রশ্ন তোলে, কীভাবে ট্রেনের ছাদে মানুষ চড়ে যাতায়াত করে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দৃশ্য দেখার পরেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে না? আদালতের মতে, এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং দায়িত্বহীনতার চরম নিদর্শন।

টিকিট কালোবাজারি রেলওয়ের আরেকটি বড় সংকট। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে কিংবা স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট পাওয়া দুষ্কর, অথচ অতিরিক্ত মূল্যে তা সহজেই মিলছে কালোবাজারে। এর পেছনে রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাইকোর্ট এই টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং যাত্রীদের হয়রানি কমাতে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, যাত্রী সাধারণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন কেবল আইনবিরোধীই নয়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। সামান্য ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এমন অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা অগ্রহণযোগ্য। হাইকোর্ট রেলওয়েকে অবিলম্বে এমন অনিয়ম বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে।

শুনানিকালে আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, রেলওয়ে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থায় সেবার মান নিশ্চিত করা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বারবার একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক তদারকির অভাব রয়েছে। ভবিষ্যতে রেলওয়েকে তাদের সেবার মানোন্নয়নে এবং সকল প্রকার টিকিট জালিয়াতি রোধে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলেও আদালত মত প্রকাশ করেছে।

পরিশেষে, রেলওয়ের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টের এই মন্তব্য সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আশা করা হচ্ছে, আদালতের এই নির্দেশনার ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা প্রদানে আরও তৎপর হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম নির্মূলে দায়িত্বশীলরা যদি এখন থেকেই কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে জনদুর্ভোগ কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস। পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র বলছে, অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রেশ ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বেরিয়ে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন রাতে ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা সক্রিয় ছিল এবং ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয়েছিল, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মীদের নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচার চেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার না পেয়ে যায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন থমথমে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিচার দাবিতে সরব রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই স্পর্শকাতর ঘটনায় কতটা দ্রুততার সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ
মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা চবিতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দুজনকে শনাক্তের দাবি আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩
Advertisement