খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও এর ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এ অনন্য নজির স্থাপন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নগর অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে কেন্দ্র করে এসব প্রকল্প সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পই বাস্তব জীবনের বিভিন্ন জটিল সমস্যার কার্যকর ও সুলভ সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এআই সামিটে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কেবল অংশগ্রহণই করেনি, বরং ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে ইভেন্টটির আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ড্যাফোডিল গ্রুপের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানও এই আয়োজনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ ও আগ্রহ আয়োজকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা তুলে ধরতে এই ধরনের প্রদর্শনী বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন এবং কৃষিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এছাড়া নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়েও শিক্ষার্থীদের কাজগুলো সামিটে সমাদৃত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। শিক্ষার্থীদের এই ১৬টি প্রকল্পই প্রমাণ করে যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রয়োগেও তারা সমান পারদর্শী।

সামিটে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর ও এর বাণিজ্যিক সফলতার বিষয়েও তারা তরুণদের পরামর্শ দিয়েছেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পগুলো কেবল সামিটে প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করে জাতীয় প্রয়োজনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

দিনব্যাপী এই সামিটে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও বিশদ পর্যালোচনার সুযোগ ছিল সেখানে। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এমন সামিটে অংশগ্রহণ ও নিজেদের কাজ তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রদানের আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে। সব মিলিয়ে, ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার চিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চার দেশের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলল ইরান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
   
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চার দেশের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চারটি নির্দিষ্ট দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই দেশগুলোর জন্য এখন এই পথ দিয়ে চলাচল আগের চেয়ে সহজ হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জাহাজগুলো এখন বাড়তি জটিলতা ছাড়াই ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে বড় করে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইরানের তরফ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপে চারটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও বাকি দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ভারত এই তালিকায় থাকায় নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরের বোঝাপড়া ও আলোচনার বিষয়টি সামনে উঠে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, তাতে যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি বা বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়। ইরান কর্তৃপক্ষ যখন তাদের আকাশ বা সমুদ্রসীমায় কোনো বিধিনিষেধ দেয়, তখন তা সাধারণত নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়। এবার বিশেষ এই ছাড় দেওয়ার অর্থ হলো, তেহরান ওই চারটি দেশের সাথে তাদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালী বরাবরই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে টানাপোড়েনের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই জলপথের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অতীতেও নানা সময় বাগবিতণ্ডা হয়েছে। তবে এবার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা ইরানের একটি কৌশলগত চাল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছে যে, তারা কেবল বৈরী সম্পর্ক নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ বা নিরপেক্ষ দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রাখতে চায়।

ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে আসে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই ইরানের এই ঘোষণা নয়াদিল্লির জন্য একটি স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বাণিজ্যিক রুটগুলোর স্বাভাবিকতা বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতি ও জাহাজ চলাচলকারী দেশগুলোর জন্য জরুরি। ইরান কর্তৃপক্ষের এই শিথিলতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর থাকে, তা দেখার বিষয়। তবে আপাতত এই চারটি দেশের বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল আগের তুলনায় আরও সুগম হলো বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সাভার-আশুলিয়ায় অস্থিরতা নিরসনে কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সাভার-আশুলিয়ায় অস্থিরতা নিরসনে কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের বাস্তবতা না থাকায়, শ্রমিকদের পুনরায় কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা। সেই দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

শিল্পাঞ্চলের একাধিক শ্রমিক নেতা জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পথে। মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এবং নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন আর রাস্তায় নামার যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করছেন তারা। বরং শিল্পকারখানাগুলো সচল থাকলে উৎপাদন অব্যাহত থাকবে, যা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের নিজেদের জীবনজীবিকার জন্য অত্যাবশ্যক। উৎপাদন বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন।

তবে কাজে ফেরার আহ্বানের পাশাপাশি শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নেতারা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেলেও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। গত কয়েকদিনের অস্থিরতায় কর্মক্ষেত্রে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব মালিকপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। শ্রমিকরা যেন কর্মস্থলে কোনো ধরণের হয়রানি বা ভীতির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিল্প সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের কারখানাগুলোতে অস্থিরতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক নেতাদের এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অনেকে। এর ফলে কারখানাগুলোতে পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার ও মালিকপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্পাঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে।

শ্রমিক নেতারা আরও জানিয়েছেন যে, কেবল কাজে ফেরা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই তাদের একমাত্র পথ। কোনো অবস্থাতেই তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন ফায়দা নিতে না পারে, সেদিকে শ্রমিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আগামী দিনগুলোতে কারখানায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে উৎপাদন ব্যবস্থা দ্রুতই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে, শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে শ্রমিক, মালিক এবং সরকার তিন পক্ষকেই পারস্পরিক সমঝোতা ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

গাজীপুর সাফারি পার্কে নতুন অতিথির আগমন: নীলগাইয়ের চার শাবকের জন্ম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুর সাফারি পার্কে নতুন অতিথির আগমন: নীলগাইয়ের চার শাবকের জন্ম

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর বংশবিস্তারের ধারায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন সাফল্য। পার্কের নীলগাইয়ের পালে জন্ম নিয়েছে চারটি নতুন শাবক। সুদূর অতীত থেকে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে মিশে থাকা এই প্রাণীর প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন হিসেবে এই নতুন অতিথিদের আগমনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোর সাফারির হরিণ সাফারি বেষ্টনীতে এই শাবকগুলোর জন্ম হয়েছে। তবে জন্মের পরপরই এদের প্রকাশ্যে আনা হয়নি। প্রায় দেড় মাস আগে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণকারী কর্মীরা প্রথমবারের মতো শাবকগুলোকে মায়ের সাথে বিচরণ করতে দেখেন।

বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি। শাবকগুলো যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এবং মানুষের উপস্থিতি বা কোলাহলে কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সে কারণেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুখবরটি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বর্তমানে শাবকগুলো মায়ের কাছাকাছি থেকে পার্কের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে দিনভর ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তবে শাবকগুলোর লিঙ্গ পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। প্রাণীগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের হওয়ায় এদের কাছাকাছি যাওয়া বা শারীরিক পরীক্ষা করা কঠিন। পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ও কর্মীরা দূর থেকে এদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। আপাতত শাবকগুলোর কোনো লিঙ্গ নির্ধারণের চেষ্টা না করে তাদের অবাধ বিচরণ ও স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাস যে নীলগাইয়ের প্রজননের জন্য অনুকূল, তা এই নতুন শাবকগুলোর জন্মের মাধ্যমেই পুনরায় প্রমাণিত হলো।

নীলগাই সাধারণত দলবদ্ধভাবে থাকতে পছন্দ করে। গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাইয়ের যে আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে, সেখানে তারা বেশ মানিয়ে নিয়েছে। গত দেড় মাস ধরে মায়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে শাবকগুলো ভালো আছে এবং কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি। পার্ক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন না হলে শাবকগুলো অচিরেই সুস্থ-সবল পূর্ণবয়স্ক নীলগাই হিসেবে বড় হবে। আগামী দিনগুলোতে এই শাবকগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এটি দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। পার্ক পরিদর্শনে আসা দর্শনার্থীরা যাতে দূর থেকে হলেও এই সুন্দর দৃশ্যটি উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেও কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা বজায় রেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। শাবকগুলোর আগমন পার্কের জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চার দেশের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলল ইরান সাভার-আশুলিয়ায় অস্থিরতা নিরসনে কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিক নেতাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে নতুন অতিথির আগমন: নীলগাইয়ের চার শাবকের জন্ম টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, নিহত সেনাসদস্য শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় ককাসের কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আভাস, অর্থনীতিতে নতুন চাপের মুখে বাংলাদেশ বাংলাদেশের স্কোয়াড গভীরতা নিয়ে মুগ্ধ ভুটানের কোচ অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ