টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, নিহত সেনাসদস্য
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী সশস্ত্র চক্রের কবল থেকে জিম্মিদের উদ্ধার করতে গিয়ে এক সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, মানবপাচারকারী চক্রের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে চক্রের পাঁচ সদস্যকে। তবে অভিযানের একপর্যায়ে পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর মো. তিতাস শেখ নামে ২৭ বছর বয়সী এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা কৌশলে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে রাখে এবং মুক্তিপণ আদায় করে। এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সশস্ত্র পাচারকারীরা যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও গুলি চালায়। গোলাগুলির এই পর্যায়ে তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অভিযান চলাকালীন সশস্ত্র পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও যৌথ বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রাখে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মানবপাচার প্রতিরোধে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটককৃত পাঁচজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পুরো এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হয়েছে। ওই পাহাড়ি অঞ্চলে আর কোনো সন্ত্রাসী বা পাচারকারী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে যৌথ বাহিনী তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মানবপাচার রোধে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। স্থানীয় জনসাধারণ যৌথ বাহিনীর এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে সেনাসদস্যের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ পেয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]