হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চার দেশের ওপর থেকে কড়াকড়ি তুলল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চারটি নির্দিষ্ট দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই দেশগুলোর জন্য এখন এই পথ দিয়ে চলাচল আগের চেয়ে সহজ হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জাহাজগুলো এখন বাড়তি জটিলতা ছাড়াই ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচল করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে বড় করে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা অস্থিরতা তৈরি হলে তা বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ইরানের তরফ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপে চারটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও বাকি দেশগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ভারত এই তালিকায় থাকায় নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরের বোঝাপড়া ও আলোচনার বিষয়টি সামনে উঠে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, তাতে যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি বা বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়। ইরান কর্তৃপক্ষ যখন তাদের আকাশ বা সমুদ্রসীমায় কোনো বিধিনিষেধ দেয়, তখন তা সাধারণত নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়। এবার বিশেষ এই ছাড় দেওয়ার অর্থ হলো, তেহরান ওই চারটি দেশের সাথে তাদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালী বরাবরই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে টানাপোড়েনের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই জলপথের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অতীতেও নানা সময় বাগবিতণ্ডা হয়েছে। তবে এবার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা ইরানের একটি কৌশলগত চাল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছে যে, তারা কেবল বৈরী সম্পর্ক নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ বা নিরপেক্ষ দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রাখতে চায়।

ভারতের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে আসে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই ইরানের এই ঘোষণা নয়াদিল্লির জন্য একটি স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বাণিজ্যিক রুটগুলোর স্বাভাবিকতা বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতি ও জাহাজ চলাচলকারী দেশগুলোর জন্য জরুরি। ইরান কর্তৃপক্ষের এই শিথিলতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর থাকে, তা দেখার বিষয়। তবে আপাতত এই চারটি দেশের বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল আগের তুলনায় আরও সুগম হলো বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন