ফোডেনের হ্যাটট্রিকে উড়ল ম্যানচেস্টার সিটি, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয়
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি স্মরণীয় রাত পার করল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। দুই দলই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল এবং দুই ম্যাচেই পাওয়া গেছে গোলের দেখা। সিটির ক্ষেত্রে ম্যাচটি ছিল একপেশে দাপট, আর লিভারপুলের ম্যাচটি ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উভয় দলই।
ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ডেরায় আতিথ্য দিয়েছিল এইকে এথেন্সকে। দলের কোচ এনজো মারেসকার শিষ্যরা এদিন মাঠজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় সিটি। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের একটি ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর এলিয়ট অ্যান্ডারসন ফিরতি শটে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল সিটি, কিন্তু অ্যালানের একটি শট গোলপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তবে তাতে সিটির আক্রমণের গতি কমেনি। রিকো লুইসের বাড়ানো পাস থেকে দারুণ দক্ষতায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফিল ফোডেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের গোলখরা কাটিয়ে তিনি তার ফর্মের জানান দেন।
বিরতির ঠিক পর এইকে এথেন্স একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিল। স্ট্যাভ্রোস পিলিওস সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান। তবে এই গোলটি যেন সিটিকে আরও তাতিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় ফিল ফোডেনের একক শো। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেন নিজেই জ্বলে ওঠেন। অসাধারণ একটি ভলিতে ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ উৎসবে ভাসান এই ইংলিশ তারকা। সব মিলিয়ে গোল করা এবং গোল করানোয় ফোডেন ছিলেন ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক। ৫-১ গোলের বড় জয়ে সিটি প্রমাণ করল তারা জয়ের ধারায় ফিরতে জানে।
অন্যদিকে অ্যানফিল্ডের গল্পটি ছিল একদম ভিন্ন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিভারপুলের শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক। কোচ আন্দোনি ইরাওলা এদিন মূল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেছিলেন। যার খেসারত দিতে হয় ম্যাচের শুরুতেই। রক্ষণভাগের ভুলে খেলার প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। ভার্জিল ফন ডাইকের একটি ভুল হেড থেকে বিপত্তি বাড়ে, যা দ্রুতই ভিয়ারিয়ালকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসে। খেলার ছন্দ ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন দলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তার সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন তরুণ রিও এনগুমোহা। একপর্যায়ে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগকে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। এক সময় পরাজয়ের শঙ্কা জাগলেও, শেষ মুহূর্তে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় দলটি। দুই ভিন্ন ধাঁচের জয় দিয়ে রাতে জয়জয়কার হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দুই বড় দলেরই।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]