দফতর ছাড়লেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যালয় ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন শেষে বুধবার রাতে তিনি তার দফতর থেকে সরে দাঁড়ান। রাকসুর কোষাধ্যক্ষের দেওয়া বিশেষ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আট দিন পর তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন সালাহউদ্দিন আম্মার। সেখানে তিনি বড় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তার এই বিদায় মুহূর্তটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে আম্মারের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আম্মারের এই কার্যালয় ত্যাগের ঘটনাটি বুধবার রাত আটটার দিকে ঘটে। কোষাধ্যক্ষের নির্দেশনামূলক চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারের পরই তিনি দ্রুত দাপ্তরিক সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাকসুর ১৭তম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও আট দিন দফতরে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখন এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রিয় রাকসু ভবন, দীর্ঘদিনের কর্মযজ্ঞ শেষে আজ বড় দায়িত্ব থেকে মুক্ত হলাম। বিদায় বেলায় তিনি তার সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সালাহউদ্দিন আম্মারের এই পদত্যাগের পর রাকসুর পরবর্তী কার্যক্রম বা পরবর্তী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।

ক্যাম্পাস রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা। আম্মারের বিদায়ের পর এখন রাকসু ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও নথিপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এই পরিবর্তন ছাত্র রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের সূচনা করবে কি না, তা নিয়ে এখন ক্যাম্পাসজুড়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে বর্তমানে আম্মার কোথায় যাচ্ছেন বা পরবর্তী রাজনৈতিক কোনো পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।

শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় রাকসু সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সেই ধারায় সালাহউদ্দিন আম্মারের দায়িত্বকালটি ছিল ঘটনাবহুল। এখন রাকসুর পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন যাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন