সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজলভ্য অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর বিভিন্ন সেমিনারে এই খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশেষজ্ঞরা সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু কার্যকর প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের মতে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনা থাকলেও মূলধনের সীমাবদ্ধতা প্রায়ই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধানে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা করা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং গ্রিন বন্ড চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও শুল্ক প্রণোদনার বিষয়টিও সেমিনারে গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়েছে। বক্তারা উল্লেখ করেছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে যদি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়, তবে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যাতে সহজেই এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরির ওপরও কাজ চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং টেকসই জ্বালানি সাশ্রয়ে স্থানীয়ভাবে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আয়োজক ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নীতিসহায়তা ও অর্থায়নের নতুন এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্রিড-টাইড ও অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যা বাড়বে। এতে একদিকে যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সহজ হবে, অন্যদিকে শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর আলোচনা থেকে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত বিকাশে কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং সুসংগঠিত অর্থনৈতিক কাঠামোই এখন সময়ের দাবি। সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা মিলে এই অর্থায়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করলে ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতের শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন