অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে ১৪টি জেলা চিহ্নিত করল সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

দেশের অভ্যন্তর থেকে অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা রোধ করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর ঝুঁকি কমাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কর্তৃপক্ষ নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্যমতে, সরকার দেশের এমন ১৪টি জেলাকে চিহ্নিত করেছে, যেখান থেকে বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এসব জেলাকে এখন বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইতালি ও লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং তাদের দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সাথে সরকারি পর্যায়ে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ যাত্রাপথের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা এবং আইনি অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো। সরকার একা নয়, বরং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়েছে।

চিহ্নিত ১৪টি জেলার জেলা প্রশাসকদের বা ডিসিদের সাথে ইতোমধ্যে বিশেষ সভা করা হয়েছে। এই সভাগুলোতে তাদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন নিজ নিজ এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়া যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে যে জীবন ও সম্পদ—উভয়েরই হানি হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতেই এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যাতে দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে তরুণ প্রজন্ম যেন ভুল পথে পা না বাড়ায়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল প্রশাসন নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে অবৈধ অভিবাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে। যারা বিদেশের বাজারে কর্মসংস্থানের সন্ধানে আগ্রহী, তাদের যেন বৈধ ও সঠিক উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অভিবাসন খরচ কমানো এবং দালালের দৌরাত্ম্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং নজরদারির আওতায় থাকা জেলাগুলোর সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও সংকট তৈরি করে। তাই এই সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত এই জেলাভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রশাসন আশা করছে, স্থানীয় ডিসিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হলে অবৈধ অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন