খুঁজুন
, ,

ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ৬ বছর আজ

মোঃ আবদুল রহিম, ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০১ অপরাহ্ণ
ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ৬ বছর আজ

নুসরাত জামান রাফি:- ফাইল ছবি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ছয় বছর আজ বৃহস্পতিবার। ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ওই বছরের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনায় মাদ্রাসা ভবনের ছাদে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৬ আসামিকে নিম্ন আদালত ফাঁসির দণ্ড প্রদান করলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে আটকে আছে কার্যক্রম। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসামির স্বজনদের হুমকির কারণে অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে নুসরাতের পরিবার। এ কারণে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নুসরাতের পরিবারকে থাকতে হচ্ছে পুলিশি পাহারায়।
যেভাবে হত্যা করা হয়
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল। ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে। পরীক্ষা শুরুর আগে বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে, এমন খবর শুনে ছাদে ছুটে গিয়েছিলেন নুসরাত। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পাঁচজন মিলে তাঁকে ছাদে চিত করে শুইয়ে ফেলেন। তাঁর পরনের ওড়নাটি দুই ভাগ করে বেঁধে ফেলেন হাত-পা। এরপর এক লিটার কেরোসিন নুসরাতের গলা থেকে পা পর্যন্ত ঢালা হয়। ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পায়ে। আগুন যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই পাঁচজন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।
নুসরাত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীমের (২০) জবানবন্দি থেকে উঠে আসে সেদিনের বিস্তারিত তথ্য। শাহাদাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। শরীরের ৮০ শতাংশ পোড়া নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে পাঁচ দিন লড়ার পর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
কিন্তু কেন এমন কাজ করলেন মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মৃত্যুর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন, নুর উদ্দিনসহ বিভিন্ন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও মামলার রায়ে পেছনের কারণ স্পষ্ট হয়। আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, নুসরাত খুনিদের লক্ষ্য হন ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনার পর থেকেই। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী থানায় মামলা করেছিলেন। এর পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল পরিবারটিকে। তবে প্রতিবাদে অনড় ছিলেন নুসরাত। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আগমুহূর্তেও তাঁকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু নুসরাত তা মানেননি। পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায়ও তিনি প্রতিবাদ করে গেছেন
নুসরাত হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহাদাত হোসেন ও নুর উদ্দিন ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ১১ ঘণ্টা ধরে ৫৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে তাঁরা ওই দিনের ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।
এই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার সঙ্গে দেখা করতে ৩ এপ্রিল যাঁরা কারাগারে গিয়েছিলেন, অধ্যক্ষ তাঁদের সবার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এরপর তিনি আলাদাভাবে মাদ্রাসাছাত্র ও ‘সিরাজ উদদৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন (২০), যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম (২০) এবং আরেক ছাত্রের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তিনি তাঁদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতকে চাপ দিতে বলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শাহাদাতের সঙ্গে একা কথা বলেন। তখন তিনি চাপে কাজ না হলে প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন। আর সে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয় নুসরাতকে।
পুলিশি পাহারায় নুসরাতের পরিবার
সোনাগাজী পৌর শহর থেকে কাশ্মীরি বাজার সড়ক হয়ে উত্তর চর চান্দিয়ায় নুসরাতদের বাড়ি। গতকাল বুধবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন এক কনস্টেবল। নুসরাত হত্যার পর সকাল-রাত পালাক্রমে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশের একজন অফিসার, কনস্টেবলসহ একটি দল বাড়ি পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে। পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দোচালা টিনের ঘরের আঙিনায় বসেছিলেন নুসরাতের মা ও ছোট ভাই।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় অন্য সব বাড়ির মতো নুসরাতের বাড়িও পানিতে ডুবে যায়। সে সময় নুসরাতের অনেক স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট হয়ে যায়। নুসরাতের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ–সংবলিত একটি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নুসরাতের দগ্ধ ছবি ছিল। সেটি দেখিয়ে তাঁর মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘ফুলের মতো মেয়েটি যে কী যন্ত্রণা পেয়েছে, বারবার ভাবি। কখনোই ভুলতে পারি না। যদি হত্যাকারীদের ফাঁসি হয়, তবে কিছুটা সান্ত্বনা মিলবে।
নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বলেন, ‘আপুকে (নুসরাত) হত্যার পর থেকে আসামির স্বজনেরা আমাকে শিবির বলে আখ্যা দেয়। আমি নাকি মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করেছি। তারাই আবার ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আমাকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের দোসর বলে প্রচার করছে।
মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্বজনেরা নুসরাতকে নিয়ে কটূক্তি করে যাচ্ছে। এতে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকছি। যত দ্রুত সম্ভব উচ্চ আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করলে নুসরাতের আত্মা শান্তি পাবে।
পরিবার সূত্র জানায়, নুসরাতের বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা জামেয়া সারাফাতিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। তিনি সপ্তাহে ছয় দিন মাদ্রাসায় থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসেন। শুক্রবার সকালেই আবার কর্মস্থলে ফিরে যান
মামলার রায়ে যা বলা হয়
নুসরাত হত্যার ঘটনায় ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন। আলোচিত এই ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় হলে ওই বছরের ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আদালত রায় ঘোষণা করেন। ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (তৎকালীন) মামুনুর রশিদ। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্সে শুনানি চলছে উচ্চ আদালতে। সাজার পাঁচ বছর পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্সে শুনানি শুরু হয়।
বাদীপক্ষের ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, বিচারপতিদ্বয়ের গঠিত বেঞ্চে গত পাঁচ মাসে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামের মধ্যে ৭ আসামির শুনানি শেষ হয়েছে। অপর ৯ আসামির শুনানি শেষ হলে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ মামলার রায় প্রদান করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ঈদুল আজহার পর এ মামলার চূড়ান্ত রায় হতে পারে। উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা লড়ছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল বাসেত ও আসামিপক্ষে মামলা লড়ছেন ব্যারিস্টার মুশফিকুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কে কোথায়
নুসরাত হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, মাদ্রাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন, ইমরান হোসেন, মহিউদ্দিন শাকিল, মোহাম্মদ শামীম, কামরুন নাহার ও উম্মে সুলতানা পপি।
ফেনী জেলা কারাগারের জেলসুপার মো. আবদুল জলিল জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ২ আসামি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতা রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার হাজিরা থাকায় তাঁদের ফেনী জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে। অপর ১৪ আসামির মধ্যে অনেকে কুমিল্লা জেলা কারাগার, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন।

বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

সাধারণত বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা উঠলে পর্যটকদের মনে প্রথমেই ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাদুঘরের নাম ভেসে ওঠে। ল্যুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন পর্যটকদের ভিড়ের দিক থেকে ইউরোপের জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত প্যালেস মিউজিয়াম। ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্থাপনাটি কেবল চীনের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পর্যটন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের নামীদামি জাদুঘরগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন বেইজিংয়ের এই প্যালেস মিউজিয়াম পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর বিশাল স্থাপত্যশৈলী এবং সংরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। মিং এবং চিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কয়েকশ বছর ধরে চীনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস প্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের যে উন্নয়ন ঘটছে, তাতে চীন সরকার তাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ফরবিডেন সিটিতে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে চীনের এই অর্জন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পর্যটকদের এখন কেবল শিল্পকলার জাদুঘর নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ ও বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্যালেস মিউজিয়ামের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দর্শনার্থীরা এখন এমন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করছেন যেখানে স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিলনমেলা দেখা যায়।

বেইজিংয়ের এই অর্জন কেবল জাদুঘরটির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো এশীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে যেমন চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে নতুন করে সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটন অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো এখন কর্তৃপক্ষর জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে ডিজিটাল টিকিটিং ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় যারা নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন বেইজিংয়ের এই নিষিদ্ধ নগরী বা প্যালেস মিউজিয়াম অবশ্যই প্রথম সারির একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিপ্লবের তাৎপর্য ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্লায়েন্ট স্টেট বা অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লব বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তার মতে, ওই ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছিল এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছিল। সেই বিপ্লব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে বার্তা বহন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। এই চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও স্পর্শ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যাই হোক না কেন, দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। অন্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যটি মূলত দেশের জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ চলতে হবে। দেশ যে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে বা চাপে পড়ে দেশের নীতি নির্ধারণের দিন শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সরকার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। কোনো চক্রান্তই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য কাজ করে যাবে। ৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লবী চেতনা থেকেই আগামী দিনে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরকার অবিচল থাকবে।

দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

মানবজীবনের পথে এমন কিছু গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে মুছে যায় না বরং স্মৃতির পাতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাস যখন রাজনীতির চশমা দিয়ে বিচার করা হয়, তখন অগণিত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বেদনার আখ্যানগুলো প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এমন এক রাজনৈতিক বিভাজন, যা কেবল মানচিত্রের সীমানা নির্ধারণ করেনি, বরং চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে হাজারো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনযাত্রা এবং পরিচয়ের ভিত্তি। ইতিহাসের পাতায় দেশভাগ একটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও, এর গভীরে লুকিয়ে থাকা মানবিক সংকটের চিত্রটি আজও অমীমাংসিত এক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশভাগের ফলে সৃষ্ট যে ভৌগোলিক ও মানসিক সীমানা তৈরি হয়েছিল, তা মানুষের হৃদয়ের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ ফেলে দিয়েছে। নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অজানা ঠিকানায় পাড়ি জমানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই বিচ্ছেদের বেদনায় যারা জর্জরিত, তাদের জন্য দেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি শৈশবের স্মৃতি, ফেলে আসা প্রিয়জন এবং শেকড়ের টান। নীলকণ্ঠ পাখি এখানে সেই হারানো সুখ ও অজানার ঠিকানায় শান্তির প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। কোনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা সেই ফেলে আসা স্বদেশের গল্পগুলো নতুন করে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়েই যেন নীলকণ্ঠের খোঁজে মানুষ আজও অতীতে ফিরে যায়।

আমাদের সমাজে এমন অনেক আখ্যান রয়েছে যা দেশভাগের বিভীষিকাকে তুলে ধরে। সেই সব গল্পের গভীরে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগ মানেই কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, বরং নিজের সত্তার একটি বড় অংশকে বিসর্জন দেওয়া। মানুষের জীবনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করার মতো কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা আজও সেভাবে কার্যকর হয়নি। সাহিত্য ও শিল্পকলায় বারবার ফিরে আসে সেই চিরচেনা গ্রাম, নদীর বাঁক আর ফেলে আসা মানুষের মুখচ্ছবি। নীলকণ্ঠ পাখির রূপক ব্যবহার করে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া স্বর্গের সন্ধানই করা হচ্ছে, যেখানে কোনো কাঁটাতার বা বিভেদ ছিল না।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করি, তখন অনুধাবন করা যায়, দেশভাগের ক্ষত কেবল ব্যক্তি মানুষের নয়, তা এক পুরো প্রজন্মের সামগ্রিক ট্র্যাজেডি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও মানুষের শিকড় খোঁজার এই আদিম বাসনা আজও অটুট। হারানো দেশ, হারিয়ে যাওয়া মানুষ এবং সেই প্রিয়জনদের সন্ধানে নীলকণ্ঠ পাখির উড়াল আসলে আমাদের সম্মিলিত চেতনার এক অংশ। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে মূলত আমরা নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের শিকড়কে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করি। স্মৃতির এই দীর্ঘযাত্রায় নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীক যেন সেই হারানো মায়া আর ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলে, যা সীমানার বেড়াজাল পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে আজও স্পন্দিত হয়।

সর্বশেষ
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু