খাগড়াছড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ক্ষতিগ্রস্ত ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার কলাবাগান এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী। আগুনের লেলিহান শিখা এতই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই তা আশেপাশের স্থাপনাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন কলাবাগান এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশেপাশের ফার্নিচারের দোকান, কাঠের গোডাউন এবং কিছু বসতঘর আগুনের গ্রাসে পড়ে যায়। এছাড়া ওই এলাকায় রাখা একটি অটোরিকশাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগুনে তাদের দোকানের মালামাল, মূল্যবান আসবাবপত্র এবং ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দমকল বাহিনীর কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে তার আগেই আগুনের তাণ্ডবে নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের ধারণা, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঘটনার পর এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কারো হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। রাতের নিস্তব্ধতায় এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছেন এবং প্রশাসনের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটিতে শোক ও ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে আছে। আগুনের উৎস ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]