নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাদক কেনার টাকা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের বাবাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওই তরুণ। নিহত ব্যক্তির নাম আফসার শেখ, যার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তিনি উপজেলার বয়রা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে খায়রুল শেখ পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা একটার দিকে বাড়িতে ডাব কাটার কথা বলে রান্নাঘর থেকে বঁটি সংগ্রহ করে খায়রুল। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই মাদক কেনার টাকার জন্য বাবার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল খায়রুল। ঘটনার দিনও টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা না দেওয়ার আক্রোশ থেকেই সে বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, আফসার শেখ একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন, অথচ এমন নির্মম পরিণতি তাকে মেনে নিতে হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক ছেলে খায়রুল শেখ এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে খুঁজে বের করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আফসার শেখের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং ছেলের স্ত্রী জুঁই খানমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের স্বার্থে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল যে একটি পরিবারের সুখশান্তি ও জীবন কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তার একটি করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত খায়রুলকে দ্রুত গ্রেফতারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বয়রা গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মা এমন পরিণতি ভোগ না করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য গোপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত অপরাধী কোনোভাবেই পার না পায়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন