খুঁজুন
, ,

ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রাসঙ্গিকতা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক গভীর চিন্তার উদ্রেক হয়েছে। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রবাহের ওপর প্রচলিত গণমাধ্যমের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। অতীতে নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশনের সামনে বসে সংবাদ দেখার বা সকালের খবরের কাগজের জন্য অপেক্ষার সেই চিরাচরিত অভ্যাস এখন প্রায় বিলুপ্ত। স্মার্টফোনের সুবাদে এখন যে কোনো ঘটনা ঘটার মুহূর্তের মধ্যেই তা ভিডিও বা ছবিসহ বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। তথ্য পাওয়ার এই সহজলভ্যতা নাগরিক সাংবাদিকতার ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুললেও পেশাদার সাংবাদিকতার মান ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে তৈরি করেছে নতুন এক সংকট।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম এখন ক্রাউডসোর্সিং বা সাধারণ মানুষের পাঠানো তথ্য ও ভিডিওর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গবেষণায় উঠে এসেছিল যে, বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দ্রুত খবর সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের বার্তাকক্ষের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আত্মস্থ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই বাস্তবতা এখন অস্বীকার করার উপায় নেই। অনেক ক্ষেত্রে খবরের গুরুত্ব নির্ধারিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সংবাদের গতিপ্রকৃতি বা রিচ দেখে। এই প্রবণতার ফলে বার্তাকক্ষের সম্পাদকীয় গরিমা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বকীয়তা কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের ফলে সাংবাদিকতার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা হয়তো ফুরিয়ে আসছে। তবে এই ধারণাটি বেশ বিভ্রান্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে অনেকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের বাইরে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, তেমনি অপেশাদার বা অযোগ্য ব্যক্তিদের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। সম্পাদকীয় নীতিমালা বা কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনেক সময় গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বর্তমানে সাংবাদিকতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা ভুয়া আধেয়। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, সহজ আয়ের পথ প্রশস্ত হওয়ায় অনেকেই প্রভাব বিস্তারের নেশায় ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সত্যতা যাচাই ও জনস্বার্থ রক্ষা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এই আদর্শিক জায়গাটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে হলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রযুক্তিকে ধারণ করার পাশাপাশি সম্পাদকীয় সততা ও নিরপেক্ষতার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর সাংবাদিকতার মূল লড়াই।

রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি

রাজধানী ঢাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে কল্যাণপুর এলাকার উত্তরপাড়ার নবাবের রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চারজন। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে ব্যস্ততম এই সড়কে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি ধাক্কা লাগলে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরুর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের একটি জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ঘটনার পরপরই ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বাসটি বেপরোয়া গতিতে আসার সময় লেগুনাটিকে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বাসের চালক বা সহকারীর গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাস ফেলে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনাটি জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সকালের দিকে এই দুর্ঘটনার ফলে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্য শুরু করায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নবাবের রাস্তার এই মোড়টি প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। আজকের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাতক বাসের চালককে চিহ্নিত করতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সকালে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে কল্যাণপুরের সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। দুর্ঘটনা কবলিত রাস্তাটিতে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মাঝে। এই শোকাবহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত রিপোর্ট তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামল বিজিবি ও আনসার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামল বিজিবি ও আনসার

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এড়াতে বুধবার সকাল থেকেই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে শিল্পাঞ্চল এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে মোট ২৫ প্লাটুন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শিল্প অধ্যুষিত এই এলাকায় বেতন কাঠামো বৃদ্ধি ও বকেয়া পাওনাসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই মূলত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তা বলয় তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে যাতে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মাঝে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও কারখানার সামনে টহল জোরদার করেছেন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকরা কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছে। এই অস্থিরতার পেছনে কোনো উস্কানি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন যাতে দ্রুত একটি যৌক্তিক সমাধানের পথে পৌঁছানো যায়। বুধবার সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েনের ফলে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রতি তারা সহানুভূতিশীল, তবে কোনো অবস্থাতেই ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো অরাজক পরিস্থিতি সহ্য করা হবে না। শিল্পাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সাধারণ শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। কোনো কারখানায় যদি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিশেষ রেসপন্স টিমগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন

শহুরে যান্ত্রিক জীবনে বায়ুদূষণ এখন এক নিত্যসঙ্গী। আমাদের শরীরের ফুসফুস বা ত্বকের সুরক্ষার বিষয়ে আমরা যতটা সচেতন, চুলের ক্ষেত্রে অনেকেই ততটা যত্নশীল নন। অথচ বাতাসে ভেসে থাকা ধুলোবালি, ধোঁয়া এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক কণাগুলো আমাদের মাথার ত্বক ও চুলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সূক্ষ্ম ধূলিকণা চুলের কিউটিকলে ঢুকে পড়ে আর্দ্রতা শুষে নেয়, যার ফলে চুল তার স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে রুক্ষ, শুষ্ক এবং প্রাণহীন হয়ে ওঠে। দূষণের পাশাপাশি জলদূষণ এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণেও চুলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তাই শীত কিংবা বর্ষা—সব ঋতুতেই চুলের জন্য আলাদা যত্নের প্রয়োজন। বাজারে বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া গেলেও, ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমেই চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আজ আলোচনা করব এমনই পাঁচটি কার্যকরী মাস্ক নিয়ে, যা আপনার চুলকে রাখবে সতেজ ও ঝলমলে।

প্রথমত, টক দই ও মধুর মাস্ক অত্যন্ত কার্যকর। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড মাথার ত্বককে পরিষ্কার রাখে এবং মধু চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সমপরিমাণ টক দই ও মধুর মিশ্রণ চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্বিতীয়ত, অ্যালোভেরা জেল ও নারকেল তেলের মিশ্রণ চুলের রুক্ষতা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং নারকেল তেল চুলকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়। অ্যালোভেরা জেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়মিত চুলে ম্যাসাজ করলে দূষণের প্রভাব অনেকটা কমে আসে। তৃতীয়ত, ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্ক প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক। ডিমের কুসুম এবং অলিভ অয়েলের মিশ্রণ চুলে প্রোটিনের জোগান দেয়, যা চুলকে মজবুত ও মসৃণ করে। এটি সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

চতুর্থত, কলা ও অলিভ অয়েলের মাস্ক চুলের যত্নে বেশ জনপ্রিয়। পাকা কলা চটকে তাতে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। কলা চুলে গভীর কন্ডিশনিংয়ের কাজ করে এবং অলিভ অয়েল চুলকে করে তোলে রেশমি ও উজ্জ্বল। এটি ৩০ মিনিট চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন। সর্বশেষ বা পঞ্চম পদ্ধতিটি হলো আমলা ও মেথির গুঁড়োর প্যাক। আমলা এবং মেথি চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ চুলে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না, জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত চুল ধোয়া, প্রচুর জল পান করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার প্রাথমিক শর্ত। এছাড়া দূষণ থেকে বাঁচতে বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ বা টুপি ব্যবহার করার অভ্যাস করা ভালো। প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়ার ধৈর্য বজায় রাখতে হবে, কারণ এর ফল তাৎক্ষণিক না হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ। সঠিক নিয়মে এই ঘরোয়া যত্নগুলো মেনে চললে দূষিত বাতাসের প্রভাব কাটিয়ে আপনার চুল আবার হয়ে উঠবে আগের মতোই ঝলমলে ও প্রাণবন্ত।

সর্বশেষ
রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামল বিজিবি ও আনসার বায়ুদূষণের প্রভাবে রুক্ষ চুল: যেভাবে নেবেন ৫ ঘরোয়া যত্ন মানি হাইস্টের পর দর্শকদের নতুন আকর্ষণ কলিশন কোর্স ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ ও প্রাসঙ্গিকতা নিরাপদ জীবনের প্রহরী ঠাকুরগাঁওয়ের নুর ইসলাম নতুন প্রজন্মের ভিড়ে অভিজ্ঞদের অভিনয়ের সুযোগ কেন জরুরি অর্থ সংকটের মধ্যেও নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দুশ্চিন্তা ও চ্যালেঞ্জ চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির দুর্দান্ত জয়: ভিয়ারিয়ালকে গোলবন্যায় ভাসালো প্যারিসিয়ানরা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও বিরোধী রাজনীতির সংকট
Advertisement