জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন তথ্যকাঠামো
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা খাতকে জলবায়ু সহনশীল করার উদ্দেশ্যে এই নতুন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কীভাবে শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো নিয়মিতই বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা তীব্র দাবদাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দুর্যোগের পর শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হয়। এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। নতুন এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত সংবেদনশীলতা যাচাই করা। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি নিরূপণ করে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, শিক্ষার মানোন্নয়নে তথ্যের সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য। তাই শিক্ষা খাতের তথ্যের সাথে জলবায়ু ও দুর্যোগবিষয়ক তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। এতে করে কোনো একটি অঞ্চলে দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথেই ওই এলাকার বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং হাওর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারিতে আসবে।
এই তথ্যব্যবস্থা কেবল ঝুঁকি চিহ্নিতকরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন, তার অগ্রাধিকার নির্ধারণেও এই তথ্য ব্যবহৃত হবে। যেসব বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নাজুক বা যা নিয়মিত দুর্যোগের কবলে পড়ে, সেগুলোকে সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের ক্ষেত্রে এই তথ্যের ভিত্তিতেই বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। এটি শিক্ষার সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি তথ্যভাণ্ডার থাকলে দুর্যোগকালে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে। বর্তমানে অনেক সময় দুর্যোগের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে শিখনফল অর্জনে ঘাটতি তৈরি হয়। নতুন এই সমন্বিত ব্যবস্থার ফলে দুর্যোগকালীন বিকল্প পাঠদান পদ্ধতি বা দূরশিক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখা সহজতর হবে। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এবং তারা শিক্ষার মূলধারা থেকে ছিটকে পড়বে না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করবে। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলের হালনাগাদ তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত করা হবে। এই ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতির সাথেও একীভূত করা হবে। মূলত একটি জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগটি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে জলবায়ু অভিযোজনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]