বাংলাদেশ ফার্মাসি কাউন্সিলের ৬৪তম রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া এবং কেন্দ্রগুলোতে নকল করার বিশেষ সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লালমনিরহাটে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্নভাবে পরীক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই ফার্মাসি কাউন্সিলের পরীক্ষাকে ঘিরে এই প্রতারণা চক্রটি বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রস্তুতি নিয়েছেন বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন, তাদের টার্গেট করেই এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। চক্রটি পরীক্ষার্থীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য নানা ধরনের ভুয়া আশ্বাস দিচ্ছে। তারা দাবি করছে যে, তাদের সাথে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে টাকার বিনিময়ে অতি সহজেই পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব।
অভিযোগে প্রকাশ, চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকাও দাবি করছে। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের অত্যন্ত প্রভাবশালী দাবি করে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন উভয়ই দেখাচ্ছে। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ফার্মাসি রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। অথচ এই পবিত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে যারা নোংরা খেলা খেলছে, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, যারা পড়াশোনা না করে অনৈতিক উপায়ে সার্টিফিকেট অর্জনের চেষ্টা করছেন, তারা এই চক্রের খপ্পরে পড়ে নিজেদের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের স্বপ্ন ধ্বংস করছেন। একই সাথে যারা সত্যিকারভাবে মেধাবী, তারাও এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনই এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং এই জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন এবং বাংলাদেশ ফার্মাসি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত এবং কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কিছু নাম ও ফোন নম্বর ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করেছেন। চক্রটি কত বড় এবং এর পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে, তা উদ্ঘাটন করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও সচেতন সমাজ মনে করছেন। ফার্মাসি পেশার মতো একটি সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ খাতের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় এই ধরনের জালিয়াতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অসাধু চক্রগুলো নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচিত যেকোনো ধরনের লোভনীয় প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমের ওপর আস্থা রাখা এবং কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়া। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ অপরাহ্ণ