কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার জেরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই শীর্ষ নেতাকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতারা হলেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং নায়েবে আমীর এমদাদুল হক মামুন। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের রোকন পদসহ দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনাটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং এমদাদুল হক মামুনকে তাদের স্ব স্ব পদ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক আবদুল হালিম বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দলীয় নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা মহানগরীতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা দলের জন্য অস্বস্তিকর ছিল। বিশেষ করে দলের সেক্রেটারি পর্যায়ে হামলা বা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা দলের ভেতরের গোপন বিরোধকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এমন অবস্থায় বড় কোনো ভাঙন এড়াতে বা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও এমদাদুল হক মামুনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন দায়িত্ব বণ্টন বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়কের সরাসরি নজরদারিতে আপাতত মহানগর শাখা পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে এই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত জরুরি ছিল, আবার অনেকের মতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন ছিল। আপাতত এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পর কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক পরিস্থিতি কি মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জানানো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৪ অপরাহ্ণ