শখের বসে বন্যপ্রাণী লালন-পালনের ঘটনা নতুন নয়, তবে সঠিক নিরাপত্তা ও সতর্কতার অভাবে প্রায়শই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী, যেখানে বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল শখ করে গোখরা সাপ পুষতেন। সম্প্রতি সেই সাপটিকে খাবার দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। ইকবালকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইকবাল হোসেন নিজের বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে এই সাপটিকে লালন-পালন করছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার সময় একটি জালে আটকা পড়া সাপটিকে তিনি উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই সাপটির প্রতি এক ধরনের মায়া তৈরি হয় তাঁর। সাপটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে একটি বিশেষ বাক্সে বন্দী করে রাখতে শুরু করেন তিনি। কাঠমিস্ত্রি পেশার সুবাদে নিজেই কাঠ দিয়ে সাপটির জন্য একটি ঘর বা বাক্স তৈরি করেছিলেন। বাড়িতে থাকা এই সাপটিকে তিনি নিয়ম করে খাবার দিতেন এবং দেখাশোনা করতেন। সাধারণত বন্যপ্রাণী বিশেষ করে সাপের মতো সরীসৃপ প্রাণীর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভীতি থাকলেও ইকবাল সাপের প্রতি নিজের অনুরাগের কারণেই এই ঝুঁকিটি নিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার দিন স্বাভাবিক দিনের মতোই ইকবাল সাপটিকে খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি বাক্সটি খোলার সাথে সাথেই সাপটি ছোবল দেয়। বিষধর গোখরা সাপের কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুঝতে পারেন যে মারাত্মক বিপদ ঘটেছে। তাঁর চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। সাপের কামড়ের পর যে ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, বনজ বা বিষাক্ত প্রাণী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বা যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এমন ঝুঁকি নেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোখরা অত্যন্ত বিষাক্ত একটি সাপ। এর কামড় দ্রুত শনাক্ত করা এবং দ্রুত অ্যান্টি-ভেনম বা বিষের প্রতিষেধক প্রয়োগ করা জরুরি। ইকবালের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, সাপের কামড়ের শিকার রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাপের বিষ শরীরে কতটা ছড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে বন্যপ্রাণী শিকার বা পোষার ক্ষেত্রে কতটা সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী আইনেও যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজের কাছে রাখা বা পোষার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ইকবালের পরিবারের জন্যই নয়, বরং আশেপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক।
বর্তমানে হাসপাতাল বেডে চিকিৎসাধীন ইকবাল হোসেনের অবস্থার ওপর নজর রাখছে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কাঠমিস্ত্রি পেশার মানুষটি নিজের তৈরি সেই বাক্সের ভেতরেই যে এমন বিপদ লুকিয়ে রেখেছিলেন, তা সম্ভবত আগে ধারণা করতে পারেননি। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বন্যপ্রাণীর আচরণের কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই তাদের সাথে মেলামেশা বা বন্দীদশায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইকবালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এলাকাবাসী এবং সেইসাথে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ও নিজ নিরাপত্তায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ