পোষা গোখরাকে খাবার দিতে গিয়ে কামড়ের শিকার কাঠমিস্ত্রি, ভর্তি হাসপাতালে
শখ করে তিন মাস আগে উদ্ধার করা বিষাক্ত গোখরা সাপ পুষছিলেন এক কাঠমিস্ত্রি। সেই সাপকে খাবার দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত দংশনের শিকার হয়েছেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই ব্যক্তি।
শখ এবং সাহসের মিশেলে বিষাক্ত সাপ পোষার ঘটনা নতুন নয়, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এমন শখ ডেকে আনে মারাত্মক বিপদ। এমনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয় বাসিন্দারা, যেখানে পোষা গোখরা সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক কাঠমিস্ত্রি। আহত ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন, যার বয়স ৪৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত কাজের পাশাপাশি শখের বশে বাড়িতে সাপ পুষছিলেন। বর্তমানে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন।
জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় তিন মাস আগে। সে সময় ইকবাল হোসেন মাছ ধরার জালে আটকে থাকা অবস্থায় একটি বিষাক্ত গোখরা সাপ দেখতে পান। সেই সাপটিকে উদ্ধার করে তিনি বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরম যত্নে তা লালন-পালন শুরু করেন। লোকালয়ের কাছাকাছি এমন বিষাক্ত সরীসৃপ পুষতে থাকায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের মনে একধরনের ভীতি থাকলেও ইকবাল তার শখের বিষয়ে ছিলেন অবিচল। তিনি সাপটিকে একটি নির্দিষ্ট বাক্সে আটকে রেখে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করতেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই নিয়মিত রুটিন মেনেই বিপত্তিটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ইকবাল হোসেন যখন বরাবরের মতোই তার পোষা সাপটিকে খাবার দেওয়ার জন্য বাক্সের ডালা খোলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই সাপটি ফণা তুলে আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি তার হাতে দংশন করে। বিষাক্ত সাপের কামড়ে তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সাপের আক্রমণ এতটাই আকস্মিক ছিল যে ইকবাল নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগ পাননি। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীকে বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হিসেবেই চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সাপের বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে তার অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-ভেনম প্রয়োগসহ যাবতীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞরাও এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে লোকালয়ে বিষাক্ত প্রাণী পোষার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি অনুমতি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার অভাব যে কত বড় ঝুঁকি হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইকবালের এই অকাল দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন অনুমতি ছাড়া বা যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কেউ বন্যপ্রাণী নিজ হেফাজতে না রাখেন। ইকবালের সুস্থতা কামনা করছেন তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তবে সাপের কামড়ের শিকার এই ব্যক্তি কত দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে সচেতনতামূলক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে শখের বশে বিপজ্জনক প্রাণীদের পোষার পরিণাম নিয়ে সবাই নতুন করে ভাবছেন।





আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]