খুঁজুন
, ,

দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস

কখনও কী ভেবে দেখেছেন, দরজায় একটি সামান্য টোকা কীভাবে আনন্দের খোরাক হতে পারে? দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা যখন একটু হাসির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি, তখন এমন কিছু ছোট ছোট মুহূর্ত আমাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে। আজ ৩১ অক্টোবর, এমন এক দিন যা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নক নক কৌতুক দিবস হিসেবে। এই অদ্ভুত অথচ আনন্দদায়ক দিবসটি মূলত মানুষের সৃজনশীলতা এবং রসবোধকে উদযাপন করার একটি মাধ্যম। যখন কেউ দরজায় টোকা দেয় এবং ভেতর থেকে প্রশ্ন আসে কে, তখনই শুরু হয় এক মজার কথোপকথন। এই সাধারণ প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে নানা ধরনের কৌতুক, যা একে অপরকে হাসানোর এক অনন্য উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নক নক কৌতুক দিবস মূলত একটি ঘরোয়া আমেজের বহিঃপ্রকাশ। এই কৌতুকগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর গঠনশৈলী। এখানে সাধারণত কথোপকথনটি এভাবেই এগোয় যে, প্রথমজন নক নক বলে শুরু করেন। দ্বিতীয়জন জিজ্ঞাসা করেন কে। এরপর প্রথমজন কোনো একটি নামের অংশ বা শব্দের আংশিক উচ্চারণ করেন, যা শুনে দ্বিতীয়জন বিভ্রান্ত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কে? আর তখনই প্রথমজন সেই শব্দের পূর্ণ রূপটি বলে কৌতুকটি শেষ করেন। এই সহজ অথচ বুদ্ধিদীপ্ত শব্দের খেলার মাধ্যমেই লুকিয়ে থাকে আসল মজা। কখনও এই কৌতুকগুলো হয় বুদ্ধিদীপ্ত, আবার কখনও হয় স্রেফ বোকা বোকা বা অদ্ভুত, যা শুনে হাসি চেপে রাখা দায় হয়ে পড়ে।

বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ এই দিবসটিকে ঘিরে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে নক নক কৌতুক শেয়ার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগেও এই কৌতুকগুলো নিজেদের আবেদন হারায়নি। বরং দ্রুত বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্মে এগুলো এখন আরও নতুন নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই ধরনের কৌতুকগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাদের সরল মনে এই শব্দের খেলার যে আনন্দ, তা এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তবে বড়দের ক্ষেত্রেও এটি মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি কঠিন দিনের শেষে প্রিয় মানুষের সঙ্গে এই ধরনের টুকটাক কৌতুক শেয়ার করা মুহূর্তেই বিষণ্নতা দূর করতে সক্ষম।

কৌতুক বা জোকস আমাদের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যখন থেকে কথা বলা শিখেছে, তখন থেকেই হাসি-তামাশার মাধ্যমে নিজেদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের জটিল সমীকরণের বাইরেও আনন্দ পাওয়ার অনেক সহজ পথ খোলা আছে। মাত্র কয়েকটি শব্দের খেলা বা পরিস্থিতির হাস্যকর মোড় কীভাবে মানুষকে হাসাতে পারে, তার প্রমাণ মেলে এই বিশেষ দিনে। অনেক সময় এই কৌতুকগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও, এগুলো তৈরির পেছনে এক ধরনের ভাষাগত কৌশল বা শব্দের দ্ব্যর্থবোধক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তাই যারা এই কৌতুকগুলো বলেন বা শোনেন, তাদেরও এই ভাষাগত নিপুণতা বেশ উপভোগ্য মনে হয়।

আজকের এই দিনে আপনিও চাইলে আপনার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নক নক কৌতুকের একটি ছোট আসর বসাতে পারেন। হয়তো আপনার বলা কোনো একটি কৌতুক কারো খারাপ মন ভালো করে দেবে, অথবা কারো অট্টহাসিতে ঘর মুখর হয়ে উঠবে। দিনশেষে, সুস্থ থাকতে এবং ইতিবাচক থাকতে হাসির কোনো বিকল্প নেই। নক নক কৌতুক দিবস আমাদের শেখায় যে, আনন্দ খোঁজার জন্য বিশাল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই, বরং চারপাশের ছোট ছোট ঘটনার মধ্যেই আমরা আনন্দ খুঁজে নিতে পারি। তাই আজকের দিনটি হোক হাসি আর আনন্দে পরিপূর্ণ, যেখানে প্রতিটি টোকা বয়ে আনুক নতুন কোনো কৌতুকের বারতা।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, বন্ধু গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, বন্ধু গ্রেফতার

রাজধানীর উত্তরখানে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সওরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার করেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সী কে এম তাহসিফ সওরি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। কী কারণে এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে শাহরিয়ার রেজা দীপকে। পুলিশি হেফাজতে রেখে দীপকে এই মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা ও ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে কোনো পরিকল্পিত চক্রান্ত থাকতে পারে। বাবার দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিষয়টি আইনগত তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তি এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন যাতে দ্রুত রহস্য উদঘাটন করা যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাহসিফ এবং দীপ দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও হঠাৎ করে মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধুকে গ্রেফতারের বিষয়টি এলাকা জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে দীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং আসল অপরাধী যাতে পার না পায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাহসিফের সঙ্গে আর কারা উপস্থিত ছিলেন তা নিশ্চিত হতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সাহায্য নিচ্ছে। গ্রেফতারকৃত দীপকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং আশা করছে যে খুব শিগগিরই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং তাহসিফের পরিবার বিচারের আশায় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে।

এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত এই পাবলিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ীই ফল প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর সামগ্রিক পাসের হারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, বিগত বছরের তুলনায় এবারে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলের বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পাসের হার ৬১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সকল বোর্ডের ফলাফল যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পাসের হার হ্রাসের কারণ সম্পর্কে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ফল কিছুটা বিপর্যয়কর হওয়ার কারণে সামগ্রিক পাসের হার কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, সারা দেশে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম-বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স এই সকল ধারার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলে বা প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর না পেলে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকে বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের ফলাফল দ্রুত জানতে সক্ষম হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে চলমান একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসির ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে

ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে হংকং সবসময়ই এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। আধুনিক শহরের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পর্যটকরা ভিড় জমান শহরের বিভিন্ন থিম পার্কে। হংকংয়ের ওশান পার্ক তেমনি এক জনপ্রিয় স্থান। এই পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ওশান এক্সপ্রেস নামে পরিচিত বিশেষ এক ট্রেন। সাধারণ ট্রেনযাত্রার সাথে এর পার্থক্য হলো, এই ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে যায় সমুদ্রের তলদেশ ভ্রমণের এক অনন্য অভিজ্ঞতায়। যারা সমুদ্রের নিচে সাবমেরিন ভ্রমণের স্বাদ পেতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেন এক চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছে।

ওশান এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মনে হয় তারা যেন সাবমেরিনের ভেতর বসে সমুদ্রের গভীরে ডুব দিচ্ছেন। প্রায় ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এই ট্রেন চলাচল করে। মাত্র চার মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথ পর্যটকদের এক অসাধারণ অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ এবং আলোর কারসাজি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা চোখের সামনে সমুদ্রের তলদেশের এক কাল্পনিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। ট্রেনের ভেতর বসা যাত্রী যখন এই টানেলের ভেতর দিয়ে পার হন, তখন মনে হতে পারে সত্যিই কোনো সাবমেরিনে চড়ে পানির নিচ দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

হংকংয়ের পর্যটন খাতে ওশান পার্কের অবদান অনস্বীকার্য। এখানে প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন। পার্কটির বিভিন্ন রাইড ও প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে ওশান এক্সপ্রেসের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মূলত এটি একটি ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম হিসেবে কাজ করলেও পর্যটকদের কাছে এটি একটি রাইড বা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম। পার্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের সময় দর্শনার্থীরা কেবল ট্রেনের কামরায় বসে থাকেন না, বরং এই স্বল্প সময়ের যাত্রায় সমুদ্রের রহস্যময় দুনিয়ার এক কৃত্রিম আবহ উপভোগ করেন।

প্রযুক্তির এই আধুনিক উৎকর্ষতা ওশান পার্ক কর্তৃপক্ষকে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ওশান এক্সপ্রেসের মাধ্যমে তারা এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীদেরই সমানভাবে আনন্দ দেয়। সমুদ্রের নিচে কোনো যান ভ্রমণের চিন্তা সাধারণ মানুষের জন্য রোমাঞ্চকর। প্রযুক্তির সহায়তায় সেই চিন্তা যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়। হংকংয়ের ওশান পার্কের এই ট্রেনটি ঠিক সেই কাজটিই করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের পর্যটন সুবিধা থাকলেও ওশান এক্সপ্রেসের মতো এমন সুড়ঙ্গপথে ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা বেশ বিরল। যারা হংকং ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বা যারা সমুদ্র নিয়ে কৌতূহলী, তাদের জন্য এই পার্কের ওশান এক্সপ্রেস মিস করার মতো নয়। পার্কটিতে প্রবেশ করার পর এই ট্রেনে চড়া এক বাধ্যতামূলক ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্রমণের জন্য যারা ভিন্ন কিছু খুঁজছেন, তারা অনায়াসেই এই সাবমেরিন সদৃশ ট্রেনের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। সমুদ্রের তলদেশ ভ্রমণ যে কেবল সাবমেরিনেই সম্ভব নয়, বরং সাধারণ ট্রেনযাত্রাতেও তার কিছুটা আমেজ পাওয়া যেতে পারে—তা ওশান এক্সপ্রেসের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই ট্রেনে চড়ে হংকংয়ের ওশান পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, যা তাদের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী এক ছাপ রেখে যায়।

সর্বশেষ
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে হত্যা মামলা, বন্ধু গ্রেফতার এইচএসসির ফল প্রকাশ: গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার ৮৪ জন সমুদ্রের গভীরে ট্রেনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা হংকংয়ে রাজশাহীতে কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক বিস্তার: সক্রিয় ৩৫টি গ্যাং ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ ধর্মঘট দরজায় টোকা আর হাসির হুল্লোড়: আজ নক নক কৌতুক দিবস শোকজের পরও রাজনৈতিক প্রচার: ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসির ইউক্রেনকে ২১০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী: রহস্যের জট খুলতে নাজেহাল বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা: আইনি জটিলতা নিরসনের পরও চলছে ধীরগতি
Advertisement